মহেশতলা—যেখানে একসময় ‘পরিবর্তন’-এর ঝড় তুলে বাম দুর্গ ভেঙেছিল তৃণমূল, আজ সেই কেন্দ্রেই উত্তরাধিকার বনাম চ্যালেঞ্জের লড়াই। দাস পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক দাপটের মাঝেই নতুন মুখ শুভাশিস দাসকে সামনে রেখে তৃণমূলের বাজি, আর তার সঙ্গেই কো-অর্ডিনেটর শামিম আহমেদের সংগঠনী তৎপরতা—সব মিলিয়ে এই আসন এখন নজরের কেন্দ্রে।
২০১১ সালে কস্তুরী দাস প্রায় ২৪ হাজার ভোটে জিতে মহেশতলায় ঘাসফুলের ভিত্তি গড়ে দেন। সেই ধারা বজায় রেখে ২০১৬-তেও জয় আসে। তাঁর প্রয়াণের পর ২০১৮-র উপনির্বাচনে দুলালচন্দ্র দাস আসন ধরে রাখেন, এবং ২০২১-এ প্রায় ৫৮ হাজার ভোটে বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন। ফলে মহেশতলা কার্যত দাস পরিবারের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিতি পায়।


তবে এবার সেই ‘দাস দুর্গ’ তকমা মানতে নারাজ প্রার্থী শুভাশিস দাস। তাঁর বক্তব্য, “এখানে কোনও ব্যক্তিগত দুর্গ নেই, সবাই তৃণমূল পরিবারের অংশ।” ২০১৫ সাল থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় শুভাশিস ধাপে ধাপে সংগঠনে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন—ওয়ার্ড সভাপতি থেকে জোনাল প্রেসিডেন্ট, এরপর কাউন্সিলর হয়ে এবার সরাসরি বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী।
কিন্তু চ্যালেঞ্জও কম নয়। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের ট্রেন্ড বলছে, তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও মহেশতলার ১৩ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে ছিল। সেই ‘চোরা স্রোত’ রুখে দেওয়া এখন শুভাশিসের সামনে বড় পরীক্ষা।
জনসংযোগের ফাঁকে শুভাশিস স্বীকার করেন, এলাকার প্রধান সমস্যা এখনও নিকাশি। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও কেন এই সমস্যা রয়ে গেল—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি দায় চাপান বাম আমলের ওপর। তাঁর দাবি, “৩৪ বছর কিছুই হয়নি, আমরা ধীরে ধীরে সব সমস্যা সমাধান করছি।” পাশাপাশি তিনি জানান, পানীয় জল ও রাস্তা নির্মাণে ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে।


নিকাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়েও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। শুভাশিসের কথায়, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের পর একটি ‘মাস্টার প্ল্যান’ নিয়ে আসবেন, যা এই দীর্ঘদিনের সমস্যা মেটাতে সাহায্য করবে।
এই লড়াইয়ে তাঁর পাশে রয়েছেন মহেশতলার কো-অর্ডিনেটর শামিম আহমেদ, যিনি নিজেও মগরাহাট পশ্চিমে তৃণমূল প্রার্থী। একাধিক কেন্দ্রে সংগঠন সামলাতে গিয়ে তাঁকে একসঙ্গে একাধিক জায়গায় প্রচার চালাতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজই শেষ পর্যন্ত ভোটে প্রভাব ফেলবে। জয় নিশ্চিত। ভাবনা শুধুই ব্যবধানের!
মহেশতলার ২৬টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই বিধানসভা কেন্দ্রে এবার লড়াই তাই শুধু জয়ের নয়—উত্তরাধিকার ধরে রাখা, সংগঠনের শক্তি প্রমাণ এবং মানুষের আস্থা পুনর্গঠনেরও। দাস পরিবারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, নাকি পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলবে—তার উত্তর মিলবে ৪ মে, ইভিএম খোলার পর।









