দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত—লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে এগোচ্ছে কেন্দ্র সরকার। বর্তমান ৫৪৩ থেকে সরাসরি ৮৫০ আসনে পৌঁছনোর পরিকল্পনা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। সব ঠিক থাকলে, আসন্ন বিশেষ অধিবেশনেই এই গুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে পেশ হতে পারে।
সূত্রের খবর, প্রস্তাব অনুযায়ী মোট ৮৫০ আসনের মধ্যে ৮১৫টি থাকবে বিভিন্ন রাজ্যের জন্য এবং ৩৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য নির্ধারিত হবে। জনসংখ্যার অনুপাত ও প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই বিল পাশ করানো সহজ হবে না। সাংবিধানিক সংশোধনের জন্য সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে Bharatiya Janata Party-র নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের হাতে রয়েছে ২৯৩টি আসন। ফলে বিল পাশ করাতে গেলে আরও অন্তত ৬৯ জন সাংসদের সমর্থন জরুরি।
শাসকদলের আশা, আগে Women’s Reservation Bill-কে সমর্থন করা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই ক্ষেত্রেও পাশে দাঁড়াবে। তবে আঞ্চলিক দলগুলির অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে Indian National Congress ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা নীতিগতভাবে সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিলের পক্ষে। তবে নতুন সংশোধনীতে কী প্রস্তাব আনা হবে, বিশেষ করে ওবিসি মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ রাখা হবে কিনা—সেই বিষয়েই তাদের অবস্থান নির্ভর করবে।
১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। এই সময়েই বিলটি পেশ ও পাশ করানোর চেষ্টা হতে পারে। ইতিমধ্যেই শাসক ও বিরোধী—দুই শিবির থেকেই হুইপ জারি করা হয়েছে, যা এই বিলের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিরোধী শিবিরেও তৎপরতা শুরু হয়েছে। Mallikarjun Kharge-র বাসভবনে ইন্ডিয়া জোটের সংসদীয় নেতাদের বৈঠক ডাকা হয়েছে, যাতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরি করা যায়। পাশাপাশি All India Trinamool Congress-সহ অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও নজর থাকছে।
সব মিলিয়ে, লোকসভায় আসন বৃদ্ধির এই প্রস্তাব শুধু সাংবিধানিক পরিবর্তন নয়, আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণকেও বড়ভাবে প্রভাবিত করতে পারে।



