নজরবন্দি ব্যুরোঃ সময়টা ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০২০। ব্রিটিশ চ্যানেলের একটি টক শো তে হাজির হয়ে চিনা ভাইরোলজিস্ট লি মেং ইয়ান বলেন, চিনের ল্যাবেই তৈরি করা হয়েছে করোনাভাইরাস। আর এটি তৈরি হয়েছে চিন সরকারের দেওয়া টাকাতেই। এটি মানুষের তৈরি বলে প্রমাণ রয়েছে তাঁর কাছে। যদিও পরে তা প্রমান করা যায়নি। বরং বিশ্বজুড়ে কোভিড ছড়িয়ে পড়ার পর প্রায় করোনা সংক্রমন মুছে যায় জিনপিং এর দেশ থেকে। কিন্তু এবার সম্ভবর আর রক্ষা নেই। ২ বছরের তফাতে ভয়ানকভাবে সংক্রমন বাড়তে শুরু করেছে চীনে।
আরও পড়ুনঃ চলতি বছরে মদ বিক্রিতে রেকর্ড আয় রাজ্যের
২০২২ সালের এপ্রিল মাসে চিনে করোনার প্রভাবে হুলুস্থুল পড়েছে দেশের আর্থিক ভরকেন্দ্র সাংহাইতে। যার ফলে ধাক্কা খাচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। করোনার কারনে সাংহাইতে লকডাউন জারি করা হয়েছে।পুরোপুরি গৃহবন্দি করা হয়েছে ২ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষকে। আচমকা লকডাউন ঘোষণার পরই গোটা শহর জুড়়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছে। খাদ্যসংকটের আশঙ্কায় সাধারণ জনতা খাওয়ার মজুত করতে শুরু করেছেন।

সার্বিকভাবে চিনে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার পেরিয়ে গিয়েছে। হিসেব বলছে এখন যা করোনা সংক্রমণ হচ্ছে তা ২০১৯ সালে শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ সংক্রমন। আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পরই একাধিক রাজ্যে লকডাউন (Lockdown) জারি করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সুপার মার্কেট। যে সমস্ত জায়গায় লকডাউন জারি হয়েছে, সেখানে খাবার ডেলিভারিও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সবার করোনা পরীক্ষা (COVID Test) শেষ না হওয়া অবধি লকডাউন জারি থাকবে।
চিনা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অন্যান্য রাজ্য থেকে সাংহাইয়ে খাবার সহ অত্যাবশ্যকীয় পণ্যগুলি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে দ্রুততার সাথে। ইমার্জেন্সি সাপ্লাই স্টেশন তৈরির করা হয়েছে সবজির সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে। যদিও শহরের প্রত্যেক বাড়িতে খাওয়ার সরবরাহ করার পরিকল্পনা কিছুটা ধাক্কা খাচ্ছে কর্মীর অভাবে। সেই কারনে কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনাও নিয়েছে চিনা প্রশাসন।
ভয়াবহ কোভিড সংক্রমণ চিনে, টানা Lock Down-এ বিপর্যস্ত জনজীবন

তবে গত দু সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে লকডাউনের কারনে গৃহবন্দি থাকার ফলে সাধারণ মানুষ ধৈর্য্য হারাচ্ছেন। অনেকেই বলছেন সামান্য উপসর্গে তাঁদের বাড়ির বাইরে বেরতে দেওয়া হোক। কিন্তু প্রশাসন নির্বিকার। জিনপিং প্রশাসনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না প্রত্যেক বাসিন্দার কোভিড টেস্ট সম্পূর্ণ হচ্ছে ততক্ষন পর্যন্ত লকডাউন জারি থাকবে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য, খাওয়ার এবং ওষুধপত্র সাপ্লাই করার দায়িত্ব প্রশাসনের।



