EMI-এর উপর সুদ, কেন্দ্রের প্রস্তাবে অনেক ফাঁকফোকরঃ সুপ্রিম কোর্ট

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ EMI-এর উপর সুদ, কেন্দ্রের প্রস্তাবে অনেক ফাঁকফোকর রয়েছে জানাল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে কেন্দ্রিয় সরকার জানিয়েছিল, ঋণ গ্রাহকদের মোরাটোরিয়ামের মেয়াদের জন্য বকেয়া সুদের উপর আর সুদ দিতে হবে না। কিন্তু কেন্দ্রের হলফনামায় খুশি হলনা সুপ্রিম কোর্ট। সুদের উপর সুদ মকুব নিয়ে কেন্দ্রিয় সরকারের প্রস্তাবে অনেক ফাঁকফোকর আছে বলে মত সর্বোচ্চ আদালতের।

আরও পড়ুনঃ আতঙ্ক বাড়িয়ে রাজ্যে আজও মৃত ৬১! কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে সুস্থতার হার।

Shamim Ahamed Ads

মহামান্য বিচারপতি অশোক ভূষন, আর সুভাষ রেড্ডি এবং এমআর শাহ এই তিনজনের বেঞ্চ জানিয়েছে কেন্দ্রের হলফনামা পিটিশনারদের সমস্ত দাবিপূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্র ও রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়াকে নতুন করে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

EMI তে সুদের উপর সুদ দিতে হবে না। ঠিক কি হলফনামা দিয়েছিল কেন্দ্র? হলফনামায় কেন্দ্র জানিয়েছিল, যারা বিভিন্ন কারনে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়েছেন এবং যে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ২ কোটি টাকা তাঁদের দিতে হবে না সুদের ওপর সুদ। ব্যাঙ্ক এবং গ্রাহক উভয়পক্ষ কে বাঁচাতে সরকার ওই বাড়তি সুদ বাবদ খরচ বহন করবে। কিন্তু অনেকেই জানতে চাইছেন এই সুদের ওপর সুদ বিষয় টি কি? বা তাতে কতটা সুবিধা পাবেন গ্রাহক?

ধরা যাক কোন গ্রাহক বাড়ি কেনার খাতে ঋন নিয়েছেন ৪০ লক্ষ টাকা। আর এই ৪০ লক্ষ টাকা ঋণের জন্যে তাকে মাসে ৩০ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হচ্ছে এখন। এই ৩০ হাজার টাকার মধ্যে সুদ বাবদ দিতে হচ্ছে ১৭ হাজার আর মূল ঋণ অর্থাৎ প্রিন্সিপ্যাল অ্যামাউন্ট শোধ হচ্ছে ১৩ হাজার টাকা।

এদিকে গ্রাহক করোনা পরিস্থিতিতে ইএমআই দিতে পারেননি ৬ মাস(মার্চ ২০২০-আগস্ট ২০২০) অর্থাৎ তার প্রদেয় সুদের অর্থ জমে গেল ১৭ হাজার X ৬ = ১ লক্ষ ২ হাজার টাকা। ব্যাঙ্ক চক্রবৃদ্ধি হারে এই সুদের অপর সুদ চাপাচ্ছিল। আজ সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র হলফনামা দিয়ে জানিয়ে দিল সুদের ওপর চাপানো সুদের অংশ টি পরিষোধ করবে কেন্দ্র।

করোনা আবহের শুরুতে ঋণ গ্রাহকদের স্বস্তি দেওয়ার জন্য ছ’মাসের মোরাটোরিয়াম ঘোষণা করেছিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI)। যা শেষ হয়েছে ৩১শে অগাস্ট। সাধারন মানুষের জন্যে ইএমআই তে স্থগিতাদেশ দিলেও পরে দেখা যায় আসলে জনগনের থেকে অনেক বেশী লাভবান হচ্ছে ব্যাঙ্ক। কার্যত শোষনের মুখে পড়ছেন সাধারন মানুষ। করোনা পরিস্থিতিতে রোজগার কমে যাওয়ায় যারা ইএমআই দিতে পারছেন না এখন তাদের পরে গুনতে হবে অনেক বেশি টাকা। কারন স্থগিত ইএমআই এর উপর ব্যাঙ্কগুলি অতিরিক্ত সুদ নেবে। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয় বিষয়টি নিয়ে।

এদিকে ৩১শে অগাস্ট ইএমআই এর অপর থাকা স্থগিতাদেশের মেয়ার শেষ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইএমআই দাতা জনগন কে স্বস্তি দিতে সুপ্রিম কোর্টে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানায় কেন্দ্র। কদিন আগে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তরফে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা কেন্দ্রিয় সরকারের সিদ্ধন্তের কথা জানান। তিনি বলেন, “ঋণ শোধ করার মোরেটোরিয়াম বা ইএমআই আগামী দু’‌বছরের জন্য স্থগিত রাখা যেতে পারে। মহামারী পরিস্থিতিতে কোন কোন সেক্টর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়টা সরকার খতিয়ে দেখছে।”

EMI-এর উপর সুদ, কেন্দ্রের প্রস্তাবে অনেক ফাঁকফোকর। সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে আপাতত ব্যাংকগুলি কোনও ব্যক্তি বা কোম্পানির অ্যাকাউন্টকে নন-পারফর্মিং অ্যাসেট হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে না। অর্থাৎ কেউ EMI দিতে না পারলে তাকে ঋণ খেলাপির তকমা দেওয়া যাবে না। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে আগামি ২ মাস এই নির্দেশ বহাল থাকবে। শুনানি হবে অক্টোবর মাসের ১৩ তারিখ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত