ভোটের ঠিক আগেই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। একাধিক জায়গায় কার্ড বিলি থেকে নগদ টাকা বিতরণের অভিযোগ তুলে All India Trinamool Congress সরাসরি আঙুল তুলেছে Bharatiya Janata Party-এর দিকে। ইতিমধ্যেই এই অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে শাসকদল, আর তাতেই নতুন করে চড়েছে নির্বাচনী পারদ।
তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটের আগে আচরণবিধি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও বিজেপির প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ‘মাতৃশক্তি ভরসা’ ও ‘যুবশক্তি ভরসা’ কার্ড বিলি করছেন। শুধু তাই নয়, কোথাও কোথাও এই প্রকল্পের আড়ালে সরাসরি নগদ অর্থও দেওয়া হচ্ছে ভোটারদের হাতে—যা সরাসরি নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের সামিল।


অভিযোগপত্রে একাধিক নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করেছে তৃণমূল। নোয়াপাড়া ও গোপীবল্লভপুর এলাকায় ‘অন্নপূর্ণ ভাণ্ডার’ প্রকল্পের নামে বিজেপি প্রার্থী Arjun Singh এবং রাজেশ মাহাতোর বিরুদ্ধে ভোটারদের ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে ভাটপাড়ায় অর্জুন সিংয়ের পুত্র পবন সিং প্রচারে গিয়ে ধর্মগ্রন্থ গীতার সঙ্গে নগদ অর্থ বিলি করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
পাণ্ডবেশ্বরেও বিতর্ক কম নয়। সেখানে বিজেপি প্রার্থী Jitendra Tiwari-র বিরুদ্ধে ক্লাবগুলিকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সোনারপুর দক্ষিণ, ইংরেজবাজার ও বাগদায় নারীশক্তি ভরসা কার্ড বিলির ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে কমিশনের কাছে।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তাঁর সাফ বক্তব্য, “বিজেপিকে টাকা দিয়ে ভোট টানতে হয় না। এই সংস্কৃতি তৃণমূলের। আমরা উন্নয়নের রাজনীতি করি।” পাশাপাশি তিনি তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন।


তবে রাজনৈতিক তরজা যতই তীব্র হোক, অভিযোগের কিছু প্রমাণ ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে বলেই দাবি করছে তৃণমূল। বিশেষ করে যুবশক্তি ভরসার নামে কার্ড বিলির ছবি প্রকাশ্যে আসায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।
এখন নজর নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের দিকে। অভিযোগের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাই নির্ধারণ করবে ভোটের আগের এই বিতর্ক কতটা বড় আকার নেয়।








