পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর (Special Intensive Revision) ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে সোমবারের শুনানিতে একের পর এক কড়া মন্তব্য ও প্রশ্নে চাপ বাড়ল নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের উপর। নামের সামান্য গরমিল, বিশেষ করে বাংলায় প্রচলিত মধ্যনাম বাদ পড়লেই নোটিস পাঠানো হচ্ছে কেন—এই প্রশ্নে কমিশনের সফটওয়্যার ব্যবস্থাকেই কাঠগড়ায় তুলল আদালত। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা বরদাস্ত করা হবে না, কিন্তু ভোটারদের অযথা হয়রানিও মেনে নেওয়া যাবে না।
শুনানির শুরু থেকেই সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে রাজ্য বনাম কমিশনের টানাপড়েন স্পষ্ট। এক দিকে রাজ্যের দাবি— তারা পর্যাপ্ত গ্রুপ-বি অফিসার দিচ্ছে, অন্য দিকে কমিশনের বক্তব্য— প্রয়োজনীয় মানের অফিসার তারা পাচ্ছে না। এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই উঠে আসে ১৪ লক্ষ ভোটারের শুনানি বাকি থাকার তথ্য, যা আদালতের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
রাজ্যের দেওয়া কর্মীদের মঙ্গলবারের মধ্যেই দায়িত্বগ্রহণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
গত শুনানিতে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট। কমিশনের দাবি ছিল, রাজ্য পর্যাপ্ত কর্মী না দেওয়াতেই বাইরে থেকে মাইক্রো অবজ়ার্ভার নিয়োগ করতে হয়েছে। সেই শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আইনজীবীদের সঙ্গে আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মী দেওয়ার আশ্বাস দেন।
সেই প্রেক্ষিতেই সোমবার শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, রাজ্য সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে দেওয়া ৮,৫০৫ জন কর্মী সকলেই গ্রুপ-বি অফিসার। পাশাপাশি আদালত জানায়, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে ওই কর্মীদের সংশ্লিষ্ট ডিইও বা ইআরও-র কাছে রিপোর্ট করে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।

সময় – ১৬:২৯ | মুখ্যমন্ত্রীর সওয়ালে অস্বাভাবিক কী আছে! প্রশ্ন প্রধান বিচারপতির
মুখ্যমন্ত্রীর সওয়াল নিয়ে দায়ের হওয়া আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন,
“এতে অস্বাভাবিক কী আছে? এটা তো সংবিধানের উপর আস্থা ও বিশ্বাসের প্রকাশ। এই বিষয়টিকে রাজনীতিকরণ করবেন না।”
সময় – ১৬:২৫ | অসহযোগিতার অভিযোগ তুলল কমিশন
কমিশনের আইনজীবী আদালতে অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার কমিশনের নির্দেশ পালন করছে না।
তাঁর বক্তব্য, “সাসপেন্ড করা হচ্ছে না, এফআইআর করা হচ্ছে না। রাজ্য বলছে— আমাদের কিছু করার নেই। প্রতিটি স্তরে অসহযোগিতা করা হচ্ছে।”
সময় – ১৬:২০ মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের হাতে ‘ট্রাম্প কার্ড’! অভিযোগ রাজ্যের
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী গোপাল এস বলেন, কমিশন এমন অফিসার চাইছে যাঁরা মহকুমাশাসক স্তরের।
তিনি বলেন, “তাহলে তো বাংলায় ৮,০০০ জেলা বানাতে হবে।”
আইনজীবী দিওয়ান অভিযোগ করেন,
“মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের দিয়ে ইআরও বা এআরও-র সিদ্ধান্তের উপর মন্তব্য করানো হচ্ছে। এতে তাঁদের কার্যত ‘ট্রাম্প কার্ড’ দেওয়া হচ্ছে, যা বেআইনি।”
এর প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন—
“তাহলে কি ইআরও-রা মাইক্রো অবজ়ার্ভারের মন্তব্যের জন্য অপেক্ষা করবেন?”
সময় – ১৬:১৫ | গণহারে ভোটার বাদ পড়ার আশঙ্কা: রাজ্য
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী দিওয়ান বলেন, “নামের বানানে গরমিল থাকলে ডিফল্ট অবস্থান হওয়া উচিত— ভোটার বাদ নয়।” তবে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, “এই মুহূর্তে আমরা এমন কোনও নির্দেশ দিতে পারি না।” দিওয়ান জানান, ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর আর আপিলের সুযোগ থাকবে না— এই বিষয়টি উদ্বেগজনক।
সময় – ১৬:০৯ | তিলকে তাল বানানো হচ্ছে: কমিশন
সুপ্রিম কোর্টে কমিশন জানায়, “আমরা কী ভাবে এখন রাজ্যের দেওয়া ৮,৫০০ জন অফিসারকে প্রশিক্ষণ ছাড়া নেব? ১৪ ফেব্রুয়ারি শেষ দিন। আসলে এই কাজ নিয়ে তিলকে তাল বানানো হচ্ছে।” তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, “এখন যে ৮,৫০০ জন পাঠানো হচ্ছে, তাঁদের আগামিকালই রিপোর্ট করে কাজে যোগ দিতে দিন।” তবে কমিশনের বক্তব্য, আগে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। কমিশনের আইনজীবী বলেন, “আগে ওই কর্মীদের প্রশিক্ষণ দরকার। না হলে তাঁরা কিছুই বুঝতে পারবেন না। কোনটা কী ভাবে করবেন?”
সময় – ১৬:০৪ | কমিশনের সফটওয়্যার অত্যন্ত কঠোর: কোর্ট
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর মন্তব্য, “আপনারা এমন ভোটারদেরও নোটিস পাঠিয়েছেন যাঁদের ৫–৬টি সন্তান রয়েছে। ব্যবহৃত সফটওয়্যার অতি কঠোর।”
সময় – ১৬:০১ | বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিলছে না কমিশনের কাজ
বিচারপতি বাগচী বলেন,
“৫০ বছরের বয়সের ব্যবধান মানেই দাদু-নাতি নয়। বাস্তবে ২০ বছর বয়সেই বিয়ে হয়। কিন্তু সফটওয়্যার বাস্তবতা ধরছে না।”
সময় – ১৫:৫৬ | মধ্যনাম বাদ গেলেও নোটিস!
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, রাজ্যের দেওয়া অফিসারেরা যদি দ্রুত যোগ দিতে পারেন, তাঁদেরও নথি দেখতে দিতে হবে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর প্রশ্ন— কমিশনের সফটওয়্যারে নামের সামান্য পার্থক্যের জন্যই কি নোটিস যাচ্ছে? উদাহরণ দিয়ে বলেন, বাংলায় ‘কুমার’ প্রায়ই মধ্যনাম— সেটা বাদ পড়লেই কেন নোটিস?
সময় – ১৫:৫২ | ১৪ লক্ষ শুনানি বাকি
কমিশনের আইনজীবীর বক্তব্য, মাইক্রো অবজার্ভারদের অন্তত ১০ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও প্রায় ১৪ লক্ষ ভোটারের শুনানি বাকি।
সময় – ১৫:৫১ | বানান গরমিল মানেই বাদ দেওয়ার চেষ্টা?
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী শ্যাম দিওয়ানের অভিযোগ, নামের বানানে গরমিল দেখিয়ে ভোটারদের বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই প্রক্রিয়া চলছে।
সময় – ১৫:৪৯ | মাইক্রো অবজার্ভার নিয়ে কোর্টের পর্যবেক্ষণ
প্রধান বিচারপতি বলেন, মাইক্রো অবজার্ভারদের কাজ ইআরও ও এআরও-কে সাহায্য করা। রাজ্যের অফিসাররা যোগ দিলে তাঁরাও মতামত দিতে পারবেন, তাতে সিদ্ধান্ত আরও মজবুত হবে।
সময় – ১৫:৪৪ | গ্রুপ-বি অফিসার বিতর্ক
রাজ্যের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি দাবি করেন, কমিশন কখনও গ্রুপ-বি অফিসার চায়নি। পাল্টা কমিশনের আইনজীবীর বক্তব্য— ৩০০ জন গ্রুপ-বি অফিসার দরকার ছিল, পাওয়া গিয়েছে মাত্র ৮০ জন, বাকিরা গ্রুপ-সি ও অন্যান্য স্তরের।
সময় – ১৫:৪২ | সব রাজ্যকে বার্তা
প্রধান বিচারপতি কান্ত বলেন, প্রয়োজনে আদালত নির্দেশ দেবে, কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাধা বরদাস্ত করা হবে না— এই বার্তা সব রাজ্যকে স্পষ্ট ভাবে বুঝে নিতে হবে।
সময় – ১৫:৪১ | ‘পাঁচটি চিঠি দিয়েও অফিসার পাইনি’
কমিশনের দাবি, প্রয়োজনীয় অফিসারের জন্য রাজ্যকে পাঁচবার চিঠি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই অনুযায়ী কর্মী পাওয়া যায়নি।
সময় – ১৫:২১ | ৮,৫০০ কর্মী দিয়েছে রাজ্য
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী জানান, রাজ্য সরকার কমিশনকে ৮,৫০০ জন কর্মী দিয়েছে এবং ই-মেল করেই তা জানানো হয়েছে।
সময় – ১৫:০২ | শুনানি শুরু
পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি শুরু হয় প্রধান বিচারপতির এজলাসে। এই মামলায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও আবেদনকারী।
আগের নির্দেশ কী ছিল
গত শুনানিতে আদালত জানিয়ে দিয়েছিল— নামের সামান্য ভুলে কাউকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। বাংলা ভাষায় দক্ষ গ্রুপ-বি অফিসার দেওয়া গেলে মাইক্রো অবজার্ভারের প্রয়োজন কমবে বলেও মন্তব্য করেছিল আদালত।



