ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে বামফ্রন্টে বাড়ছে অস্বস্তি। জোটের শরিকদের মধ্যেই শুরু হয়েছে প্রকাশ্য মতবিরোধ, আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে আইএসএফ। একাধিক আসনে একই সঙ্গে প্রার্থী ঘোষণা করে ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি কার্যত জোট রাজনীতির ভিতেই প্রশ্ন তুলে দিল।
প্রথম থেকেই প্রার্থী তালিকা ঘিরে অস্বস্তির ইঙ্গিত মিলছিল। বিশেষ করে শ্যামপুকুর-সহ কয়েকটি আসন নিয়ে সিপিএম ও ফরওয়ার্ড ব্লকের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হলেও পরে তা মিটে যায়। কিন্তু পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে ওঠে যখন আইএসএফ মধ্যমগ্রামে প্রিয়াঙ্কা বর্মনকে প্রার্থী ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ফরওয়ার্ড ব্লক।
অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লকের সাধারণ সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ করেন, আইএসএফ সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পথে হাঁটছে। তাঁর দাবি, সেই কারণেই মধ্যমগ্রামে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে তাঁদের দল। ইতিমধ্যেই ওই আসনে কমরেড নিতাই পালকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে ফরওয়ার্ড ব্লক।
একই পথে হাঁটছে আরেক শরিক দল আরএসপিও। তারা জানিয়েছে, আইএসএফের সঙ্গে জোটে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বৃহত্তর বাম ঐক্যের স্বার্থে তারা তা মেনে নিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে তারা মনে করছে, আইএসএফের অবস্থান বামফ্রন্টের কৌশলের পরিপন্থী। সেই কারণেই বাসন্তী আসনে তরুণ আইনজীবী সমর বিশ্বাসকে প্রার্থী করেছে আরএসপি এবং খানাকুলেও শীঘ্রই প্রার্থী ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে।
আরএসপির আরও অভিযোগ, তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে মেরুকরণ বজায় রেখে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে আইএসএফ। তাদের মতে, এই কৌশলে বামফ্রন্টের বাধ্যবাধকতাকেই ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি আইএসএফের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসভঙ্গ’-এর অভিযোগও তুলেছে তারা।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছে আইএসএফ। দলের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী স্পষ্ট জানিয়েছেন, জোট নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। তাঁর দাবি, আরএসপি মিথ্যা বলছে এবং ভোটে মানুষই তার জবাব দেবে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, এবারের নির্বাচনে একাধিক আসনে জয় আসবে এবং সাধারণ মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে বাম জোটে এই অন্তর্দ্বন্দ্ব কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মতভেদ যদি না মেটে, তাহলে ছাব্বিশের লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেতে পারে বামফ্রন্ট।



