২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক জমি ফের দখলের মরিয়া লড়াইয়ে নেমেছে বামফ্রন্ট। ২০২১ সালে শূন্য হাতে ফেরার পর এবার আর কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় তারা। তাই ঐতিহ্যগত প্রার্থী বাছাইয়ের পথ ছেড়ে নতুন কৌশল—যেখানে অভিজ্ঞতার বদলে গুরুত্ব পাচ্ছে যুবশক্তি, পেশাদার দক্ষতা এবং নতুন জোট সমীকরণ।
সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন প্রার্থী তালিকায়। তরুণ প্রজন্মকে সামনে রেখে একাধিক নতুন মুখকে টিকিট দিয়েছে Communist Party of India (Marxist)-এর নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট। উত্তরপাড়া থেকে মিনাক্ষী মুখার্জি এবং দমদম উত্তর থেকে দীপ্সিতা ধর ইতিমধ্যেই প্রচারের মুখ হয়ে উঠেছেন। ছাত্র-যুব আন্দোলন থেকে উঠে আসা এই নেত্রীদের ‘অ্যাক্টিভিস্ট’ ইমেজকে কাজে লাগিয়ে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা স্পষ্ট।


বিশেষ করে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ-এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক প্রতিবাদে তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরা হচ্ছে প্রচারে। বামফ্রন্টের কৌশল স্পষ্ট—রাজনৈতিক আন্দোলনের মাটিতে দাঁড়ানো মুখগুলোকেই ভোটের ময়দানে এগিয়ে দেওয়া।
নারী প্রতিনিধিত্বেও নজরকাড়া পরিবর্তন এসেছে। এবার ২৭ জন মহিলা প্রার্থী এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ৪০ বছরের নিচের প্রার্থী দিয়ে প্রথমবারের ভোটারদের টার্গেট করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রজন্মভিত্তিক রদবদল বামেদের ‘রিব্র্যান্ডিং’-এর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জোট রাজনীতিতেও ঘটেছে বড় ভাঙন ও পুনর্গঠন। দীর্ঘদিনের বাম-কংগ্রেস সমঝোতা কার্যত শেষ। Indian National Congress আলাদাভাবে ২৮৪টি আসনে লড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বামফ্রন্ট নতুন সমীকরণ খুঁজেছে। এবার তারা Communist Party of India (Marxist–Leninist) Liberation এবং Indian Secular Front-এর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। বিশেষ করে নওশাদ সিদ্দিকি-র নেতৃত্বে আইএসএফ সংখ্যালঘু ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে বাম শিবির।


এর পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মতো জেলায় ছোট আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে সমঝোতার কথাও শোনা যাচ্ছে, যা স্পষ্টতই সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেই।
প্রার্থী নির্বাচনে আবেগকেও রাজনৈতিক কৌশলের অংশ করেছে বামফ্রন্ট। নদিয়ার কালীগঞ্জে রাজনৈতিক হিংসায় নিহত এক কিশোরীর মাকে প্রার্থী করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ইস্যুকে সামনে এনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিকে বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তায় রূপান্তরের এই কৌশল গ্রামীণ বাংলায় কতটা সাড়া ফেলবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



