নজরবন্দি ব্যুরো: পঞ্চায়েত ভোটের আগে নিজের খাসতালুক মুর্শিদাবাদে কোণঠাসা অধীর চৌধুরী। নিচুতলায় বামেদের সঙ্গে জোট বেঁধে পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়াইয়ের কথা শোনা গিয়েছিল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর মুখে৷ এর পর চব্বিশ ঘণ্টা যেতে না যেতেই খোদ অধীর চৌধুরীর নিজের জেলা মুর্শিদাবাদেই জোট নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন উঠে আসল৷ কারণ কংগ্রেসের জন্য অপেক্ষা না করে বা কোনও আসন না ছেড়েই মুর্শিদাবাদের জেলা পরিষদের ৭৮টি আসনে একতরফা প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে বামফ্রন্ট৷
আরও পড়ুন: Panchayat ঘোষণা হতেই খড়গ্রামে খুন কংগ্রেস কর্মী, পুলিশের জালে ৩
তবে এভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিলেও জোটের সম্ভাবনা একেবারে খারিজ করে দেননি জেলা বামফ্রন্ট নেতৃত্ব৷ এই প্রসঙ্গে সিপিএমের জেলা সম্পাদক জামির মোল্লার প্রতিক্রিয়া, ‘আলোচনার রাস্তা তো খোলা থাকল। আলোচনার প্রস্তাবে আসলে সমঝোতা করা হবে। আমরা সমস্ত দিক খোলা রাখছি।’প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদই প্রথম নয়৷ ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোেটর পথে না হেঁটে জেলা পরিষদের সব আসনে প্রার্থী দিয়েছে বামেরা৷

পঞ্চায়েত ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে এখনও বামেদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি৷ সূত্রের খবর, কংগ্রেসের সঙ্গে মূলত নিচু তলায় অর্থাৎ গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরেই বোঝাপড়ার ওপরে বেশি জোর দিচ্ছেন সিপিএম তথা বাম নেতৃত্ব৷

তবে উল্টো ছবিও ধরা পড়েছে। শনিবার মুর্শিদাবাদের ডোমকলে৷ মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে বিরোধীরা প্রথমে শাসক দলের বাধার মুখে পরে বলে অভিযোগ৷ পরে বাম-কংগ্রেস প্রার্থীরা একজোট হয়েই মনোনয়ন জমা দেন৷ দুই দলের প্রার্থী, কর্মী- সমর্থকরা একজোট হওয়ায় পিছু হঠে শাসক শিবিরও৷ অর্থাৎ জোটবদ্ধ হয়ে লড়াইর ফল হাতেনাতে উঠে আসে। যা জোটের হাওয়াকে পোক্ত করবে।
পঞ্চায়েত ভোট, নিজের খাসতালুক মুর্শিদাবাদে কোণঠাসা অধীর

কয়েক মাস আগে সাগরদিঘি উপনির্বাচনে বামেদের সমর্থনে জয়ী হয়েছিল কংগ্রেস৷ কিন্তু কংগ্রেসের জয়ী প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস শাসক দলে নাম লিখিয়েছেন৷ তার পরেও তৃণমূলকে পরাস্ত করতে সাগরদিঘি মডেলের ওপড়ে জোর দিতে শোনা গিয়েছে বাম-কংগ্রেস নেতৃত্বের মুখে৷ পঞ্চায়েত ভোটে শেষ পর্যন্ত দুই শিবির এই জোটধর্মে পথে হাঁটবে কি না, এটাই কৌতূহল চারিদিকে৷



