ইডেন গার্ডেন্সে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই, শেষ বল পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা—সবকিছুর পরও ফল একই। লড়াই করেও হার এড়াতে পারল না কেকেআর। দুরন্ত প্রত্যাবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা ম্যাচটি একক দক্ষতায় ঘুরিয়ে দিলেন লখনৌর মুকুল চৌধুরী, আর সেই সঙ্গে নাইট শিবিরে যোগ হল আরও একটি হতাশা।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি কেকেআরের। দ্বিতীয় ওভারেই ফের ব্যর্থ ফিন অ্যালেন। প্রত্যাশার ভার বইতে না পেরে মাত্র ৯ রানেই ফিরে যান তিনি। এরপর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস সামলান। তরুণ অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর সঙ্গে তাঁর ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি কেকেআরকে ম্যাচে ফেরায়।
মাঝের ওভারগুলোয় লখনৌর বোলাররা কিছুটা রাশ টানলেও শেষদিকে ঝড় তোলেন রভম্যান পাওয়েল। তাঁর ২৪ বলে ৩৯ রানের ইনিংস কেকেআরকে লড়াইয়ের পুঁজি দেয়। পাশাপাশি ক্যামেরন গ্রিনের ৩২ রানের ইনিংসটিও কার্যকর ভূমিকা নেয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে কেকেআর তোলে ১৮১ রান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী লখনৌ। প্রথম চার ওভারেই ৪০ রান তুলে চাপ বাড়ায় তারা। এডেন মার্করাম আউট হলেও আয়ুশ বাদোনির ৫৪ রানের ইনিংস ম্যাচকে একপেশে করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু মাঝের ওভারগুলোয় দুর্দান্ত লড়াইয়ে ম্যাচে ফিরে আসে কেকেআর। একে একে সাত উইকেট তুলে নিয়ে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছিল নাইটরা।
কিন্তু ক্রিকেটে শেষ কথা বলে না কেউ। ঠিক সেই জায়গাতেই নাটকের মঞ্চে আবির্ভাব মুকুল চৌধুরীর। চাপের মুখে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করে ২৭ বলে ৫৪ রান করে তিনি ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। শেষ বল পর্যন্ত লড়াই গড়ায়, আর সেখানেই বাজিমাত লখনৌর।
শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেয় লখনৌ, আর কেকেআরের জন্য থেকে যায় ‘আরও একটা হার’-এর বেদনাই।



