প্রথমে কুণাল ঘোষকে দলের রাজ্য সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে দেয় তৃণমূল এবং তারপর তারকা প্রচারকের তালিকা থেকেও বাদ যায় তাঁর নাম। এর পরই একের পর এক সংবাদমাধ্যমে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অনেক বিষয় নিয়ে সরব হন ‘অনুগত সৈনিক’ কুণাল। তাঁকে নিয়ে বিগত দু’দিন অস্বস্তিতে শাসক দল। এদিকে কুণাল কিন্তু রয়েছেন বেশ খোশমেজাজেই। কখনও ‘হীরক রাজার দেশ’ সিনেমার গান গাইছেন, কখনও বলছেন তাঁর পদ দরকার নেই, তিনি পথে থাকতেই পছন্দ করেন।
আরও পড়ুন: ভোট প্রচারে গিয়ে দেবের চপারে আগুন! অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন তৃণমূলের নায়ক প্রার্থী
এ হেন কুণাল ঘোষের মানভঞ্জনে এবার আসরে নামলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি ও কুণাল ঘোষ যে ‘ভালো’ বন্ধু তা কমবেশি অনেকেই জানেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, শুক্রবার থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চেষ্টা করছেন কুণালের অভিমান ভাঙানোর। সেক্ষেত্রে ব্রাত্য বসুর ওপর সেই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। শনিবার বেলা ১২টা ১৫ নাগাদ কুণাল ঘোষকে নিজের গাড়ি করে বেকবাগানে ডেরেক ও’ব্রায়েনের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

কুণাল ঘোষকে রাজ্য সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আসে সেখানে স্বাক্ষর ছিল ডেরেকের। এরপর তাঁকে ‘কুইজ মাস্টার পিওনের কাজ করেছেন’ বলে কটাক্ষ করেন কুণাল। সেই ডেরেকের সঙ্গেই বৈঠক করতে চলেছেন তিনি। এবার কি গলবে বরফ? ফের রাজ্য সম্পাদক পদ ফিরে পাবেন কুণাল ঘোষ? রাজ্য-রাজনীতিতে চলছে জোর জল্পনা।

ব্রাত্যের দৌত্যে ডেরেকের বাড়িতে কুণাল, তবে কি মধুরেণ সমাপয়েৎ?
একটি রক্তদান শিবিরে গিয়ে তৃণমূলত্যাগী বিধায়ক তাপস রায়ের সঙ্গে দেখা হয় কুণাল ঘোষের। যিনি বর্তমানে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এবং লোকসভা নির্বাচনে কলকাতা উত্তরের প্রার্থীও হয়েছেন। সেই তাপসের প্রশংসা করেন কুণাল। এরপর গুণগান করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। পাশাপাশি, তৃণমূলের কলকাতা উত্তরের প্রার্থী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে আসছেন বিগত কয়েকদিন ধরেই।

কুণাল বলেছেন, “আমার পদ প্রয়োজন নেই। আমি পথে থাকতেই পছন্দ করি। তবে, আমি তৃণমূলে ছিলাম, আছি, থাকব। কিন্তু, মুখ বুঝে সব সহ্য করতে পারব না।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, নিয়োগে যে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে তা দলের শীর্ষ নেতারা আগে থাকতেই জানতেন, কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, পার্থ চট্টোপাধ্যায় যিনি এই মুহূর্তে জেলবন্দি, তাঁর কার্যকলাপ ফাঁস করেছেন কুণাল। পাল্টা পার্থও শুক্রবার জবাব দিয়েছেন, কুণাল ঘোষ বিরোধীদের চেয়েও বেশি তৃণমূলের ক্ষতি করছে, তাঁকে আগেই তাড়িয়ে দেওয়া উচিৎ ছিল।



