শুক্রবার সন্দেশখালিতে এক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি সন্দেশখালির সরবেড়িয়ায় তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের বাড়িতে অভিযান চালায়। তাঁর অনুগামীদের হাতে বেধড়ক মারধরের শিকার হন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এই ঘটনায় এবার মুখ খুললেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh on Sandeshkhali Incident)। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কেও একহাত নিলেন তিনি।



আরও পড়ুন: ‘তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানকে শায়েস্তা করে ছাড়ব’, সন্দেশখালির ঘটনা প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি সুকান্তর
সন্দেশখালির ঘটনায় বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকেই আঙুল তুলেছে বিরোধীরা। তবে তৃণমূল (TMC) এই ঘটনায় জড়িত নয়, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে শাসক দলের তরফে। তাদের পাল্টা অভিযোগ, ‘এই ঘটনার পিছনে প্ররোচনা রয়েছে।’ দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) পরামর্শ দিয়েছেন, ‘কারও প্ররোচনায় পা দেবেন না। দলের নেতৃত্ব পুরো বিষয়টা দেখছে। তারা যথাযথ সময় পদক্ষেপ।



সন্দেশখালিকাণ্ডে তীব্র কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Ganguly)। তাঁর কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গের সাংবিধানিক অবস্থা ভেঙে পড়েছে। ইডি আধিকারিকদের যেভাবে মারা হয়েছে, দুর্ভাগ্যজনক। রাজ্যপাল কেন কোনও কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।’ এনিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘উনি প্রশ্ন করার কে? ওনার নেতা সাজার ইচ্ছে হলে হাইকোর্টের বাইরে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেন।’ কটাক্ষ করে রাজ্যসভার প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘চেয়ারটা বিচারপতির কিন্তু কণ্ঠটা বিরোধীদের।’ যোগ করেন, ‘বিচারপতির আসনে বসে এই ধরনের মন্তব্য করা যায় না। প্রধান বিচারপতির উচিত তাঁকে হাইকোর্ট থেকে বের করে সিপিএমের ব্রিগেডে ছেড়ে দিয়ে আসা। উল্লেখ্য, আগামী ৭ জানুয়ারি সিপিএমের ব্রিগেড রয়েছে।
সন্দেশখালির ঘটনা ED-র ষড়যন্ত্রের ফল, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কেও একহাত নিলেন কুণাল

এদিন সাত সকালে সন্দেশখালিতে যান ইডি আধিকারিকরা। শাহজাহান শেখের বাড়িতে ডাকাডাকি করলেও সাড়া পাওয়া যায় না। এরপরই আচমকা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। অভিযোগ, ইডি আধিকারিকদের মারধর করা হয়। ঘটে যায় রক্তারক্তি কাণ্ড। নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় থানায় গিয়ে আশ্রয় নেয় ইডি। বিজেপি এই ঘটনায় সরব হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য রাজ্যের ৩ শীর্ষ পদাধিকারিককে ডেকে পাঠিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।







