নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাড়ছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা! সম্প্রতি উত্তরাখন্ডে ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত প্রান হারিয়েছেন ৩১ জন, নিখোঁজ ১৭০ জনেরও বেশি মানুষ। উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় হড়পা বান কেন দেখা দিল সেই নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীদের অনুমান হিমবাহ হ্রদ ফেটে যাওয়ার কারণেই এই ঘটনা ঘতেছে। পুণের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ট্রপিকাল মেটিরিওলজির জলবায়ু বিজ্ঞানী ডক্টর রক্সি মেথিউ কোল জানিয়েছেন, জলবায়ুর পরিবর্তন অন্যতম কারণ হতে পারে উত্তরাখন্ডের ঘটনার।
আরও পড়ুনঃ ব্যাক্তিগত আক্রমন করছেন একদা প্রিয় কানন! ১০ কোটি টাকার মামলা দায়ের কুনালের।
উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় তুষারপাত হয়েছে, সেই বরফ জলের উপরে জমে যাওয়ায় ফ্ল্যাশ ফ্লাড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন ডক্টর রক্সি মেথিউ কোল। সম্প্রতি ভারতের জলবায়ুর পরিবর্তন নিয়ে যে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর হিমালয়ের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বেড়ে চলেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪০০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় উষ্ণায়নের পরিমাণ দশক প্রতি ৪ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই হারে উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে হিমালয়ে বরফ গলতে শুরু করেছে ফলে জমে থাকা বরফের পরিমাণ কমতে শুরু কমে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সেন্টার ফর হিমালয়ান ইকোলজির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয় কিন্তু তা বিপর্যয়প্রবণ এলাকা গুলি আগে থেকে চিহ্নিত করতে পারলে বিপর্যয় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
বাড়ছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা! তারা জানিয়েছেন, বিপর্যয় প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করতে হলে যে সব হ্রদ অঞ্চলে ক্রমাগত বৃষ্টি হচ্ছে, হিমবাহ হ্রদ খুব দ্রুত আয়তন বিস্তার করছে সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এবং সেই সমস্ত অঞ্চল গুলি খুঁজে বের করতে হবে। ইতিমধ্যে এই প্রক্রিয়ায় কাজ শুরু করা হয়েছে। ওয়াদিয়া ইন্সটিটিউট অফ হিমালয়ান জিওলজির গ্লেসিওলজি ও হাইড্রলজি বিভাগের সিনিয়ার বিজ্ঞানী ডক্টর সন্তোষ কুমার রাই জানিয়েছেন, গুরুত্বের সাথে এবং খুব দ্রুত সতর্কতা দেওয়ার কাজ করতে হবে ভারতকে।
বিজ্ঞানীদের মতে, ভারতের অন্যান্য জায়গা গুলির মতো শহর কলকাতাও বিপদে রয়েছে। যে কোনো সময়ে উত্তরাখণ্ডের মতো ভয়ানক ঘটনা ঘটতে পারে কলকাতাতেও। শহরে হতে পারে মেঘভাঙা বৃষ্টি। এমনটা হলে গোটা কলকাতা চলে যাবে জলের তলায়। বিগত কয়েকবছর বছর যার দিকে একটু একটু এগোচ্ছে কলকাতা। পরিবেশবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরের জলের উষ্ণতা বৃদ্ধিই শহরে বিপদ ডেকে আনছে। ফলত, ঘন ঘন ঘূর্ণীঝড় জন্ম নিচ্ছে বঙ্গোপসাগরে। আর তাতেই বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা।



