নজরবন্দি ব্যুরো: কোহিনুর নিয়ে গোটা বিশ্বজুড়েই নানা চর্চা। এখন প্রশ্ন আগামী বছর মে মাসে রাজা চার্লসের অভিষেক হতে পারে। আর সেই সময় রানি কনসর্ট ক্যামিলা পরবেন রাজমুকুট। কিন্তু সেই মুকুটে কি শোভা পাবে কোহিনুর মণি?
আরও পড়ুন: কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, মৃত অন্তত ২৫ জন
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বলেন, ‘বিষয়টি (কোহিনুর) আমরা একাধিকবার ব্রিটিশ সরকারের কাছে তুলে ধরেছি।এই সমস্যার সন্তোষজনক সমাধানের পথ খুঁজছি আমরা।’ প্রচলিত রয়েছে বিশালাকার হীরাটি ভারত থেকে এসেছে এবং ভারতের শেষ শিখ সম্রাট রানী ভিক্টোরিয়াকে দিয়েছিলেন।
তখন রানী ভিক্টোরিয়ার বয়স ছিল ১০ বছর। কিন্তু উপহার দেওয়া নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং ভারতসহ অন্তত তিনটি দেশে তা ফেরত দেওয়ার দাবি উঠেছে। এই মূল্যবান রত্নটি বিখ্যাত ক্রাউন জুয়েলসের অংশ। এখন খবর যে কোহিনুরের জায়গায় ব্রিটেনের মুকুটে বসানো হতে পারে আরেকটি হীরা। রাজকীয় সূত্রগুলি জোর দিয়ে বলেছে যে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে, ভারতের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে রাজ্যাভিষেকের সময় কোহিনূর মুকুটের ব্যবহার “কিছু ভারতীয়কে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দিনের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে”।

উল্লেখ্য, প্রায় ৭০ বছর পরে হতে চলা ‘করোনেশন সেরিমনি’তে চার্লসের স্ত্রী ‘কুইন কনসর্ট’ ক্যামিলাকেও রানি ঘোষণা করা হবে। ফলে তাঁর মুকুটেই শোভা পাওয়ার কথা কোহিনুর হিরের। কিন্তু একটি রিপোর্টে মোতাবেক রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক হিরেটি পরবেন না ক্যামিলা।কারণ, এতে আপত্তি জানিয়েছে ভারতের শাসকদল বিজেপি।
‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এ প্রকাশিত এক বিজেপি মুখপাত্রের বয়ান, ‘পাঁচশো বছর ধরে ভারতের প্রায় ছ’টি প্রজন্ম বিদেশি শাসনের অত্যাচার সহ্য করেছে। তবে এখন অতীতে সাম্রাজ্যবাদের সেই ভয়ংকর দিনগুলির কথা বেশিরভাগ ভারতীয়র মনে নেই। তবে রানি এলিজাবেথের মৃত্যুর পরে রাজ্যাভিষেকে রানি ক্যামিলা কোহিনুর ব্যবহার করলে ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক দিনগুলির কথা ফের মনে পড়বে ভারতীয়দের।’
ভারতে আসতে চলেছে কোহিনুর মণি, জানাল বিদেশমন্ত্রক

বলে রাখা ভাল, দীর্ঘদিন ধরেই কোহিনুর হিরে ভারতকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে বিজেপি। উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস যাবত্ ব্রিটেন এবং ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সমস্যা চলছে। এর অন্যতম কারণ, মুক্ত বাণিজ্যের শর্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনুমান, তাই এখনই ভারতকে হয়তো নতুন করে রাগিয়ে দিতে চাইবে না ব্রিটেন (Britain)।



