নজরবন্দি ব্যুরোঃ অনেকেই হয়ত জানেন না পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন রথযাত্রা পালিত হয় গুপ্তিপাড়ায়। বহুবছর ধরে এই গুপ্তিপাড়ায় ভান্ডার লুঠের নিয়ম পালিত হয়ে চলেছে। তাও আবার রীতি মেনে। এই রথযাত্রা দেখতে বহু দূর দুরান্ত থেকে মানুষ এখানে হাজির হয়। এই মেলা চলে প্রায় এক মাস ধরে।
আরও পড়ুনঃ দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, প্রকাশ্যে এলো জওয়ান এর প্রচার ঝলক?


তবে কেন পালিত হয় এই আজব রীতি তা কি আপনাদের জানা আছে? তবে রথের দিন নয় এই রীতি পালন করা হয় উল্টো রথের দিন। এই দিন প্রায় বহু হাজার লোক এই মন্দিরে হাজির হন। এই দিন জগন্নাথ দেবের যতরকম প্রিয় খাবার আছে সব বিতরন করা হয়। সেই ভোগ খাওয়ার জন্যই সেখানে হাজির হন দর্শকেরা।

তবে এই নিয়ে রটিত রয়েছে এক পুরনো কাহিনী। পুরাণে রয়েছে জগন্নাথ দেব স্নান যাত্রা করার পর তার ধুম জ্বর আসে। ফলে সেই সময় জ্বরের জন্য কোন খাবার খেতেই রুচি পাচ্ছিলেন না তিনি। ফলে বাধ্য হয়ে স্বাদ বদল করতে তিনি বলরাম ও সুভদ্রাকে নিয়ে মাসির বাড়ি চলে যায়। সেখানে গিয়ে তিনি তার সমস্ত প্রিয় খাবার পেয়ে যান।



মালপোয়া থেকে শুরু করে মণ্ডা মিঠাই সমস্ত কিছু পেয়ে তিনি বাড়ি ফেরার কথা একপ্রকারে ভুলেই যায়। ভক্তদের সাথে মেতে উঠতে থাকেন তিনি। এদিকে অনেকদিন পার হয়ে গেলেও জগন্নাথ দেব ফিরে না আশায় চিন্তায় পরে যায় তার স্ত্রী। সে ভাবে তার স্বামী হয়ত পরকীয়াতে লিপ্ত হয়েছে।
প্রতিবারই উল্টো রথে ভাণ্ডার লুঠের উৎসবে মেতে ওঠে গুপ্তিপাড়া, জানুন রহস্য

ফলে তিনি ছুটে যান তার স্বামিকে মাসির বাড়ি থেকে ফেরাতে কিন্তু তিনি ব্যারথ হন। এরপর জগন্নাথ দেবের স্ত্রীকে সাহায্য করার জন্য কৃষ্ণচন্দ্র পরিকল্পনা করেন। এবং লেঠেল দিয়ে তার মাসির বাড়ি থেকে সমস্ত খাবার লুঠ করে নিয়ে চলে যান। এর পরেই তিনি বাধ্য হয়ে তার নিজের বাড়ি ফিরে যান। সেই লুঠ করার প্রথা এখনও প্রচলিত রয়েছে।







