নজরবন্দি ব্যুরোঃ থিতু হচ্ছে দিল্লি, গত কয়েক সপ্তাহের লড়াই, হাহাকার, পেরিয়ে ক্রমে শান্ত হচ্ছে রাজধানী। ধীরে ধীরে খালি হচ্ছে নার্সিংহোম গুলি, পার্কিং লটে থরে থরে পড়ে নেই প্যাকেট বন্দী মৃতদেহ। রাজধানী জুড়ে জ্বলা গণচিতার শিখা নিভু নিভু। সব মিলিয়ে পুরো সুস্থ না হলেও, ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে দিল্লি।
আরও পড়ুনঃ বিধায়ক শূন্য দিনহাটা, ১০ দিনের মাথায় নিশীথের পদত্যাগ নিয়ে বিরক্ত উদয়ন


করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কাছে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে একটা গোটা দেশ। চারদিকে হাহাকার অক্সিজেন, বেড, হাস্পাতাল, টিকা। কোথাও কোথাও মৃত্যু মিছিলে কম পড়ছে চিতায় তোলার কাঠ। গত কয়েক সপ্তাহে ভয়াবহ পরিস্থিতি ছিলো দিল্লিতে। অক্সিজেনের চরম সংকট, বেড নেই গোটা রাজ্যে, অক্সিজেনের অভাবে হাসপাতালের বেডে শুয়েও থেমে গেছে বহু রোগীর প্রাণ, এমনকি পাওয়া যায়নি মৃতদেহ রাখার জায়গাও।
সেই ভয়াবহ দিন পেরিয়ে এসেছে দিল্লিবাসী। একসঙ্গে লড়েছে সকলে, নিয়ম মেনেছে কড়া ভাবে। কয়েকদিন আগেই রাজধানীর মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন কমছে সংক্রমণ, প্রয়োজনীয়তা কমছে অক্সিজেনের। আজ নিজে জানিয়েছেন,২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে সংক্রমিতের সংখ্যা নেমে গিয়েছে ১০ হাজারেরও নিচে। গত ২০ এপ্রিল যেখানে দিল্লিতে ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিতের সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার। বহুদিন বাদে নেমেছে পরিসংখ্যান, এখন নেমে এসেছে সাড়ে ৮ হাজারে। পজিটিভিটি রেট যেখানে ২২ এপ্রিল পৌঁছে গিয়েছিল ৩৬ শতাংশে, সেখানে এখন তা কমে ১২ শতাংশ।
তবে এখনো সকলকে কড়া ভাবে থাকতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী, জানিয়েছেন এই সাড়ে ৮ হাজার কে কমিয়ে আনতে একেবারে শূন্যে। সকল রাজ্যবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘‘এর কৃতিত্ব দিল্লিবাসীর। কড়া ভাবে আপনারা নিয়ম মেনে চলেছেন। তবে আত্মতুষ্টির জায়গা নেই। আরও কড়া হতে হবে। নাহলে ফের বাড়বে সংক্রমণ।’’। তবে এও জানিয়েছেন এখনই এই কমের হার দেখে গাছাড়া ভাব দেখালে আবার তরতরিয়ে বাড়তে পারে আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়বে সংক্রমণের হারও। সেই কারণেই সকলে এখনো কড়া নিয়মের মধ্যে থাকতে বলেছেন তিনি।


পরিস্থিতি একটু থিতু হতেই রাজ্যের মানুষের জন্য আজ বড়ো ঘোষণা করেছেন কেজরীওয়াল। এই কঠিন সংকটের সময়ে কড়া হাতে সব সামলে আবার মানবিকতার উদাহরন দিয়ে জানিয়েছেন, ‘‘ম্যায় হুঁ না।’’ আজ কেজরীওয়াল ঘোষণা করেছেন, কোভিডে সর্বস্ব হারিয়ে অনাথা শিশু গুলির দায়িত্ব নেবে দিল্লি সরকার। তিনি জানিয়েছেন, ‘‘আমাদের সকলের জন্যই খুব যন্ত্রণায় কেটেছে বিগত দিনগুলি। বহু পরিবারই একের বেশি মৃত্যুর সম্মুখীন হয়েছে। বহু শিশুই বাবা-মা দু’জনকেই হারিয়েছে। আমি অনুভব করতে পারি তাদের কষ্টটা। আমি তাদের পাশে আছি। যে শিশুরা অভিভাবকদের হারাল তাদের পড়াশোনার দায়িত্ব আমাদের, রাজ্য সরকারের। তাদের বেড়ে ওঠা থেকে পড়াশোনা সব খরচ জোগাবে সরকার।”
সেই সঙ্গে সেসব শিশুদের পাশে থাকার জন্য অনুরধ করেছেন প্রতিবেশীদেরও, আজকে তিনি বলেছেন, ” প্রতিবেশী ও পরিবারগুলিকেও বলতে চাই আপনারাও ওদের খেয়াল রাখুন। এছাড়াও এমন অভিভাবকরা আছেন যাঁদের সন্তান মারা গেছে কোভিডে। কত পরিবার হারিয়েছে তাদের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যকে। আমরা তাদেরও দেখভাল করব।’’ আর তার সঙ্গেই আত্মবিশ্বাসী সুরে বলেছেন, তিনি আছেন তো। তবে যেভাবে একটা ভয়াবহ সময় দিল্লি পেরিয়ে এসেছে, আর করা হাতে দাঁড়িয়ে থেকে সামাল দিয়েছেন কেজরিওয়াল তাতে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে এই মুহুর্তে অনেকের জন্য একটা ভরসা কেজরীওয়ালের ‘‘ম্যায় হুঁ না” কথাটুকু।
থিতু হচ্ছে দিল্লি, উল্লেখ্য পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আনার পরই, বাড়ন্ত অক্সিজেন অভাবী রাজ্যকে দিয়ে সাহায্যের কথা ভেবেছে কেজরীওয়াল সরকার। গতকালই একথা ঘোষণা করেছেন দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসৌদিয়া। বৃহস্পতিবার একটি বৈঠকে তিনি নিজে জানিয়েছেন ‘‘অক্সিজেনের চাহিদা এখন অনেকটাই কমে গিয়েছে। হাসপাতালের শয্যাও ফাঁকা হচ্ছে ক্রমশ। ১৫ দিন আগেও দিনে ৭০০ মেট্রিক টন অক্সিজেনের দরকার হত আমাদের। এখন চাহিদা কমেছে, এই মুহুর্তে দৈনিক চাহিদা দাঁড়িয়েছে দৈনিক ৫৮২ মেট্রিক টনে।’’ তাই কেন্দ্রকে জানিয়েছেন দিল্লির জন্য বরাদ্দ বাড়তি অক্সিজেন অন্য অভাবি রাজ্য গুলিকে পাঠানো হোক।







