কামারহাটি (Kamarhati) পুরসভার চেয়ারম্যান পদকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। প্রাক্তন চেয়ারম্যান গোপাল সাহা (Gopal Saha)-র পদত্যাগের পর চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নির্দল কাউন্সিলর সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় (Sushanta Chatterjee), যিনি বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় (Locket Chatterjee)-এর ভাই। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হলেও, বিজেপির (BJP) রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের অনুমোদন ছাড়া কাউকে বিজেপির প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরা যাবে না। একই সঙ্গে তিনি গোটা ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্টও তলব করেছেন।
সোমবার কলকাতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্যের পর এই ইস্যু নতুন রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে।
কীভাবে চেয়ারম্যান হলেন সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়?
গত ১২ জুন কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান এবং কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দেন গোপাল সাহা। এরপর আরও কয়েকজন কাউন্সিলরও পদত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত বোর্ড বৈঠকে উপস্থিত ২৭ জন কাউন্সিলরের সর্বসম্মত সমর্থনে নির্দল কাউন্সিলর সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন।
এই নির্বাচনকে ঘিরেই বিভিন্ন মহলে দাবি ওঠে যে কামারহাটি পুরসভা বিজেপির নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
শমীক ভট্টাচার্যের কড়া বার্তা
ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Syama Prasad Mookerjee)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতার মুরলীধর সেন লেনের বিজেপি কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই বিষয়ে মুখ খোলেন শমীক ভট্টাচার্য।
তিনি বলেন, দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ছাড়া কেউ নিজেকে দলের প্রতিনিধি বা কাউন্সিলর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন— এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না।
তাঁর বক্তব্য, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কোনও ব্যতিক্রম হবে না।
বিস্তারিত রিপোর্ট চাইলেন রাজ্য সভাপতি
কামারহাটির ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
তিনি রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী (Amitabh Chakraborty)-কে বিষয়টি পরীক্ষা করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
রিপোর্টের ভিত্তিতেই দলের পরবর্তী অবস্থান স্পষ্ট করা হবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
কেন তৈরি হল বিতর্ক?
সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় নির্দল কাউন্সিলর হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও, তিনি বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের ভাই হওয়ায় রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়ে যায়।
এরপর বিভিন্ন মহলে দাবি ওঠে যে পুরসভার নিয়ন্ত্রণ বিজেপির হাতে চলে এসেছে। তবে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দল এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান যাচাই না করে কোনও দাবি সমর্থন করছে না।
এখন নজর রিপোর্টের দিকে
কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এখন নজর বিজেপির অভ্যন্তরীণ রিপোর্টের দিকে। সেই রিপোর্টে কী উঠে আসে এবং দল পরবর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিক।






