বারুইপুর (Baruipur)-এ নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় তদন্তে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বলে চিহ্নিত আনন্দ সর্দার (Ananda Sardar)-কে গ্রেপ্তার করেছে বারুইপুর জেলা পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, আগেই গ্রেপ্তার হওয়া প্রভাস মণ্ডল (Prabhas Mondal) ও দিবাকর সর্দার (Dibakar Sardar)-কে জিজ্ঞাসাবাদ করেই মূল অভিযুক্তের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মেলে। এরপর বারুইপুর বাজার এলাকা থেকে আনন্দ সর্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই নিয়ে মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও উত্তেজনা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপ করেছে এবং বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।
প্রভাসের জেরাতেই মিলল মূল অভিযুক্তের খোঁজ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার গ্রেপ্তার হওয়া প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর সর্দারকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করা হয়। সেই জেরায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্তকারীরা আনন্দ সর্দারের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হন।
এরপর সোমবার বারুইপুর বাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ এখন তাঁর ভূমিকা এবং ঘটনার সম্পূর্ণ ক্রম জানতে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
তিন অভিযুক্ত এখন পুলিশের হেফাজতে
এই মামলায় এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া তিন অভিযুক্ত হলেন—
- আনন্দ সর্দার
- প্রভাস মণ্ডল
- দিবাকর সর্দার
তদন্তকারীরা তিনজনের বয়ান মিলিয়ে ঘটনার পূর্ণ চিত্র পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি ফরেনসিক প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে নেমেছে ৬ সদস্যের SIT
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে।
তদন্তকারী দলের মূল লক্ষ্য, ঘটনার সমস্ত দিক দ্রুত খতিয়ে দেখে আদালতে শক্তিশালী চার্জশিট পেশ করা।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা
সোমবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আশ্বাস দেন, পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবির প্রতি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি জানান, তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে।
এলাকায় জারি BNS-এর ১৬৩ ধারা
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বারুইপুর, সোনারপুর (Sonarpur) এবং নরেন্দ্রপুর (Narendrapur) থানা এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তদন্তের পরবর্তী ধাপে নজর
মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও মামলার তদন্ত এখনও চলছে। তদন্তকারীরা এখন অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে পুরো ঘটনার পুনর্গঠন করছেন।
চূড়ান্তভাবে কী ঘটেছিল এবং কার কী ভূমিকা ছিল, তা আদালতে পেশ করা প্রমাণ ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।






