দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান (Ghatal Master Plan) বাস্তবায়নে আরও একধাপ এগোল রাজ্য সরকার। প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি বর্ষা শেষ হলেই প্রকল্পের মূল নির্মাণকাজ শুরু হবে। প্রায় ১,২৩২ কোটি টাকার এই প্রকল্প আগামী চার বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। রবিবার ঘাটাল (Ghatal) টাউন হলে আয়োজিত প্রাক-বন্যা প্রস্তুতি ও প্রকল্প পর্যালোচনা বৈঠকে এই ঘোষণা করেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস (Arup Kumar Das)।
বৈঠকে বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি, নদী সংস্কার, বাঁধ মজবুতকরণ, জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রশাসনের দাবি, বর্ষা শেষে প্রকল্পের গতি আরও বাড়ানো হবে।
প্রাক-বন্যা বৈঠকে প্রশাসনের প্রস্তুতি পর্যালোচনা
ঘাটাল টাউন হলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেচ দপ্তরের মুখ্য সচিব রাজেশ কুমার সিনহা (Rajesh Kumar Sinha), পশ্চিম মেদিনীপুর (Paschim Medinipur)-এর জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ (Bijin Krishna), পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা (Papiya Sultana) এবং অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিক।
বৈঠকে ঘাটাল, দাসপুর (Daspur) ও চন্দ্রকোনা (Chandrakona)-সহ বন্যাপ্রবণ এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। দুর্যোগের সময়ে দ্রুত ত্রাণ, পানীয় জল, চিকিৎসা এবং উদ্ধার পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও খতিয়ে দেখা হয়।
কী বললেন সেচমন্ত্রী?
সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস জানান, প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকার ১,২৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। তাঁর কথায়, আগামী চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সমস্ত কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুইস গেটের সংস্কার ও মেরামতের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে বর্ষাকালে বড় ধরনের নির্মাণকাজ সম্ভব নয়। তাই বর্ষা শেষ হওয়ার পর থেকেই নদী সংস্কার, বাঁধ শক্তিশালী করা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের মতো মূল কাজ দ্রুত শুরু হবে।
ডিপিআর-এ করা হয়েছে সংশোধন
বৈঠকে জানানো হয়, বিশেষজ্ঞদের তৈরি প্রকল্পের বিস্তারিত রিপোর্ট (DPR)-এ বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিগত নকশা সংশোধন, নির্মাণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন এবং জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এই সংশোধনের ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হবে।
নদীভাঙন ও জলনিকাশি নিয়ে উদ্বেগ
বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন এলাকার বিধায়করা নদীভাঙন, জলনিকাশি সমস্যা, বাঁধের দুর্বল অবস্থা এবং প্রতিবছরের বন্যাজনিত দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন।
সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা সব অভিযোগ নথিভুক্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
সরেজমিনে পরিদর্শন
বৈঠক শেষে সেচমন্ত্রী এবং সেচ দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধিদল ঘাটালের বিভিন্ন নদীবাঁধ, সুইস গেট এবং সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।
কোন এলাকায় আগে কাজ শুরু করা হবে এবং কোথায় জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হয়। প্রশাসনের আশা, বর্ষা শেষ হওয়ার পর পূর্ণমাত্রায় কাজ শুরু হলে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং ভবিষ্যতে বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।






