বারুইপুর (Baruipur)-এর নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনার আবহ। এই পরিস্থিতিতে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেফতার এবং তিনজনকে আটক করা হয়েছে। একইসঙ্গে গণপিটুনির ঘটনায় প্রায় ২০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি স্পষ্ট বার্তা, তদন্তে কোনও পুলিশকর্মীর গাফিলতি ধরা পড়লে তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বারুইপুর কাণ্ডের তদন্তে আইজি (IG)-র নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) কাজ করছে। আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে পলাতক অভিযুক্তদের ফোনে যোগাযোগের তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলেও জানান তিনি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
নিহত নাবালিকার পরিবারের পাশে সরকার রয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, পরিবার সরকারের কাছে যে সব দাবি জানিয়েছে, সেগুলি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দোষীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সুপারিশও করবে রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার পর স্থানীয় থানার ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হবে। যদি কোনও পুলিশকর্মীর গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁকে “দরজা দেখিয়ে দেওয়া হবে” বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি। প্রশাসনের কাজে কোনওরকম অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেন।
গণপিটুনির ঘটনায়ও কঠোর অবস্থান নেয় সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনও অধিকার কারও নেই। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ২০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
রাজ্যে মদের সহজলভ্যতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত মদের দোকান এবং মাদকাসক্তির প্রভাব সমাজে অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। এই বিষয়ে ধাপে ধাপে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে অতীতের তামান্না মামলারও উল্লেখ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত হয়েছে। একইভাবে বারুইপুর কাণ্ডেও দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর কথায়, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনও আপস করবে না এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।






