আরজি কর (RG Kar Medical College and Hospital)-এর তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুন মামলায় বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ঘটনাকালীন দায়িত্বে থাকা তিন আইপিএস আধিকারিক—প্রাক্তন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল (Vineet Goyal), তৎকালীন ডিসি (নর্থ) অভিষেক গুপ্ত (Abhishek Gupta) এবং ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় (Indira Mukherjee)-এর সাসপেনশনের মেয়াদ আরও ১২০ দিন বাড়ানো হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর আরজি কর মামলার বিভিন্ন দিক নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনে কোনও গাফিলতি বা তথ্য গোপনের অভিযোগ ছিল কি না, তা বিশদে তদন্ত করা হচ্ছে। সেই কারণেই তিন আধিকারিকের সাসপেনশন বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে কর্তব্যরত এক তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ঘটনার তদন্ত চলাকালীন কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ, তথ্য বিভ্রান্তির অভিযোগ এবং তদন্ত পরিচালনা নিয়ে তৎকালীন প্রশাসন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল।
প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল (Vineet Goyal)-এর বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে কলকাতা পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে সরানো হয়েছিল। একই সময়ে সংবাদমাধ্যমে পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিকবার মুখপাত্র হিসেবে সামনে আসেন ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় (Indira Mukherjee) ও অভিষেক গুপ্ত (Abhishek Gupta)। তাঁদের বিরুদ্ধেও তদন্তে তথ্য আড়াল ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ সামনে আসে।
ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হলে একাধিক ব্যক্তির যাতায়াত দেখা গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ওই ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ভিডিওটি সেমিনার হলের হলেও ঘটনাস্থল সুরক্ষিত ছিল। এরপর থেকেই তাঁর বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।
এছাড়া সেমিনার হলের নিরাপত্তা, প্রমাণ সংরক্ষণ, ভাঙচুর এবং তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলিও বিভাগীয় তদন্তের আওতায় রয়েছে। সেই তদন্তের অগ্রগতি বিবেচনা করেই তিন আইপিএস আধিকারিকের সাসপেনশনের মেয়াদ আরও ১২০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।






