ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Dr. Syama Prasad Mookerjee)-এর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কলকাতার মুরলীধর সেন লেন (Muralidhar Sen Lane)-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা করেন, বর্তমান রাজ্য সরকার ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী প্রণবানন্দ (Swami Pranabananda)-এর আদর্শ ও ভাবধারাকে সামনে রেখেই রাজ্য পরিচালনা করবে। পাশাপাশি বামফ্রন্ট ও তৃণমূলের শাসনকালে তাঁর অবদানকে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে সোমবার বিকেল ৩টায় রাজ্যের প্রতিটি জেলা, মহকুমা, ব্লক এবং পুরসভায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে একযোগে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে কলকাতায়।
এই উপলক্ষে নিউটাউন (New Town)-এর ইকো পার্ক (Eco Park) সংলগ্ন এলাকায় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুট উচ্চতার মূর্তি নির্মাণের ভূমিপুজো করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। পরে তিনি মিলন মেলা (Milan Mela) প্রাঙ্গণে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানেও বক্তব্য রাখবেন।
বক্তৃতায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও ভূমিকার ফলেই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যেতে পেরেছিল। তাঁর মতে, এই ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা না থাকলে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ ভিন্ন হতে পারত। তাঁর বক্তব্য, ইতিহাসের এই অধ্যায় সম্পর্কে মানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, রাজ্যের স্কুলগুলিতে যেমন প্রতিদিন ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হয়, তেমনই আগামী দিনে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দলীয় কর্মসূচি শেষ করে মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশন (Mitra Institution)-এ যান। ১৯০৬ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত এই বিদ্যালয়েই ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কেটেছিল। এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাহুল সিনহা (Rahul Sinha), প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Pratap Banerjee), লকেট চট্টোপাধ্যায় (Locket Chatterjee)-সহ বিজেপির একাধিক নেতা।





