বারুইপুর (Baruipur)-এর নাবালিকা খুনের ঘটনায় তদন্তে আরও অগ্রগতি। রবিবার গভীর রাতে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর ফলে এই মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়াল দু’জন। পাশাপাশি আরও তিন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বারুইপুর (Baruipur), নরেন্দ্রপুর (Narendrapur) এবং সোনারপুর (Sonarpur) এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। রাতভর চলে পুলিশি ধরপাকড়।
শনিবার থেকে নিখোঁজ থাকা ১২ বছরের এক কিশোরীর দেহ রবিবার সকালে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে এক যুবক নিহত হওয়ার অভিযোগও ওঠে। এরপরই পরিস্থিতি সামাল দিতে বড়সড় পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
নাবালিকা খুনের মামলায় প্রথম অভিযুক্তকে রবিবার গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর রাতভর তল্লাশি চালিয়ে আরও এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটক তিন জনের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তিনটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। একটি নাবালিকাকে খুনের অভিযোগে, একটি গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এবং অপরটি পুলিশকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে।
নিহত কিশোরীর পরিবারের দাবি, তাঁকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। যদিও পুলিশ এখনও সেই দাবি নিশ্চিত করেনি। রবিবার রাতেই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের বক্তব্য, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া যাবে। রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনার পর নিহত কিশোরীর বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিশোরীর পরিবারকে মঙ্গলবার ভবানীভবনে দেখা করার জন্যও ডাকা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
এদিকে আইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) কঙ্করপ্রসাদ বারুই (Kankar Prasad Barui) জানিয়েছেন, দোষীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে। পরিস্থিতি যাতে নতুন করে অশান্ত না হয়, সেই কারণে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর ও সোনারপুর এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।



