বারুইপুর (Baruipur)-এর নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। কালীঘাট (Kalighat) এলাকায় পুলিশি কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল হওয়ার পরই বারুইপুরের উদ্দেশে রওনা দেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) একটি প্রতিনিধি দল। একইসঙ্গে তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে। নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই নিয়ে মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়াল দু’জন। আরও তিন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
বারুইপুরে যাওয়া প্রতিনিধি দলে রয়েছেন সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল (Pratima Mondal), তৃণমূল নেতা বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Biman Banerjee), রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন (Dola Sen) এবং অনিতা কর (Anita Kar)। ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি পরিস্থিতির খোঁজ নেবেন তাঁরা বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
বারুইপুর রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দোলা সেন অভিযোগ করেন, কালীঘাটে অযথা পুলিশি কড়াকড়ি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বারুইপুর যেতে পারেন—এই সম্ভাবনার জেরেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “এ যেন সুপার ইমার্জেন্সি।”
অন্যদিকে, তদন্তে গতি আনতে ইতিমধ্যেই ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে পুলিশ। নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় দ্বিতীয় গ্রেফতারির পর তদন্তকারীরা আটক তিন জনের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছেন। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বারুইপুর (Baruipur), সোনারপুর (Sonarpur)-সহ সংলগ্ন কয়েকটি এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি এবং টহল।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ফরেন্সিক পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পর তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। প্রশাসনের দাবি, এই ঘটনায় জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না এবং দ্রুত চার্জশিট পেশের লক্ষ্যে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।






