বিশ্বকাপে আবারও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল আর্জেন্টিনা (Argentina)। আটলান্টা (Atlanta)-য় শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে একসময় ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের গোলে ৩-২ ব্যবধানে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল লিওনেল মেসি (Lionel Messi)-র দল। শুরুতে পেনাল্টি মিস করলেও শেষ পর্যন্ত গোল করে দলের প্রত্যাবর্তনের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন মেসি। নাটকীয় এই জয় আবারও প্রমাণ করল, শেষ বাঁশি বাজার আগে আর্জেন্টিনাকে কখনওই খেলার বাইরে ভাবা যায় না।
ম্যাচের শুরুটা মোটেই স্বস্তিদায়ক ছিল না আর্জেন্টিনার জন্য। আক্রমণে একের পর এক সুযোগ তৈরি হলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না লিওনেল মেসি (Lionel Messi), হুলিয়ান আলভারেজ (Julián Álvarez) কিংবা এনজো ফার্নান্দেজ (Enzo Fernández)-রা। উল্টো দিকে প্রতি আক্রমণেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছিল মিশর (Egypt)।
প্রথমার্ধেই বড় সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। এক গোলে পিছিয়ে থাকার সময় পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরানোর সুযোগ এলেও তাঁর শট সহজেই আটকে দেন মিশরের গোলরক্ষক। সেই মুহূর্তে আর্জেন্টিনা শিবিরে হতাশার ছায়া নেমে আসে।
মিশরের আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন মহম্মদ সালাহ (Mohamed Salah)। তাঁর নিখুঁত পাস ও আক্রমণ সাজানোর দক্ষতায় বারবার চাপে পড়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণ। ১৫ মিনিটে ইব্রাহিম (Ibrahim) গোল করে মিশরকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে মোস্তাফা (Mostafa) ব্যবধান দ্বিগুণ করতেই ম্যাচ কার্যত মিশরের দিকেই ঝুঁকে যায়।
তবে এরপরই শুরু হয় আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। একের পর এক আক্রমণে চাপ বাড়াতে থাকে লিওনেল স্কালোনি (Lionel Scaloni)-র দল। প্রথমে রোমেরো (Romero) ব্যবধান কমান। এরপর নিজের ভুল শুধরে গোল করে সমতা ফেরান মেসি। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছে, তখনই এনজো ফার্নান্দেজ (Enzo Fernández)-এর জয়সূচক গোল আর্জেন্টিনাকে এনে দেয় ৩-২ ব্যবধানের নাটকীয় জয়।
দু’গোলে পিছিয়ে থেকেও যেভাবে ঘুরে দাঁড়াল আর্জেন্টিনা, তা এই বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ হিসেবেই জায়গা করে নেবে। মেসির নেতৃত্বে দুর্দান্ত মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে শেষ আটে পৌঁছে গেল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এখন কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে আরও এক নতুন পরীক্ষার অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা।



