সপ্তাহের প্রথম ট্রেডিং সেশনেই দেশের প্রতিরক্ষা (Defence) খাতের শেয়ারে জোরালো উত্থান দেখা গেল। কেন্দ্রীয় সরকারের ₹৫২,০০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (Defence Acquisition Council বা DAC)-এর অনুমোদনের পর সোমবার বাজার খুলতেই একাধিক ডিফেন্স স্টকে কেনাকাটার ঝড় ওঠে। এর জেরে নিফটি ইন্ডিয়া ডিফেন্স ইনডেক্স (Nifty India Defence Index) প্রায় ১.৬ শতাংশ পর্যন্ত শক্তিশালী হয়। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং সরকারি মূলধনী ব্যয়ের সম্ভাবনা বৃদ্ধির প্রত্যাশাই এই র্যালির অন্যতম কারণ।
ডিফেন্স খাতে সরকারের বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। ফলে সরকারি ও বেসরকারি— উভয় ক্ষেত্রের প্রতিরক্ষা সংস্থার শেয়ারেই ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
Zen Technologies ও Paras Defence-এ সবচেয়ে বেশি উত্থান
সোমবারের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে জ়েন টেকনোলজিস (Zen Technologies) এবং পারস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস টেকনোলজিস (Paras Defence and Space Technologies)। দুই সংস্থার শেয়ারই ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়।
এর পাশাপাশি ভারত ডায়নামিক্স (Bharat Dynamics), ভারত ইলেকট্রনিক্স (BEL), ডেটা প্যাটার্নস (Data Patterns India) এবং সোলার ইন্ডাস্ট্রিজ ইন্ডিয়া (Solar Industries India)-এর শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়।
এছাড়া হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স (HAL), এমটিএআর টেকনোলজিস (MTAR Technologies), ডায়নাম্যাটিক টেকনোলজিস (Dynamatic Technologies), মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স (Mazagon Dock Shipbuilders) এবং মিশ্র ধাতু নিগম (Mishra Dhatu Nigam)-এর শেয়ারও ইতিবাচক অবস্থানে লেনদেন করে।
কেন বাড়ল ডিফেন্স স্টক?
এই উত্থানের মূল কারণ ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত। গত সপ্তাহে কাউন্সিল ₹৫২,০০০ কোটি টাকার একাধিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রকল্পে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
সরকারের মতে, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বায়ুসেনার যুদ্ধ প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পও উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে।
সেনাবাহিনীর জন্য কী কী কেনার অনুমোদন?
ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য একাধিক আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- আকাশ তরঙ্গ (Akash Tarang) অ্যান্টি-ড্রোন ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম
- ম্যান পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (MPATGM)
- মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (MRSAM)
- ভেরি শর্ট রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (V-SHORADS)
- ট্যাঙ্কের জন্য অ্যাক্টিভ প্রোটেকশন সিস্টেম
- জেট-ভিত্তিক কামিকাজে ড্রোন সিস্টেম
নৌবাহিনী ও বায়ুসেনাও পাচ্ছে বড় বরাদ্দ
ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য মাল্টি-ইনফ্লুয়েন্স গ্রাউন্ড মাইন (MIGM), ন্যাভাল শিপবোর্ন আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (NSUAS) এবং ইলেকট্রিক প্রোপালশন সিস্টেমের জন্য ল্যান্ড-বেসড টেস্টিং ফ্যাসিলিটি (LBTF) তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ফিক্সড-উইং হাই অল্টিটিউড সিউডো স্যাটেলাইট (FW-HAPS)-সহ একাধিক আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রকল্পেও সবুজ সংকেত দিয়েছে কাউন্সিল।
বাজারের নজর এখন ডিফেন্স সেক্টরে
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর ধারাবাহিক নীতি ভবিষ্যতেও ডিফেন্স খাতের সংস্থাগুলির অর্ডার বুককে শক্তিশালী করতে পারে। সেই প্রত্যাশাতেই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, স্বল্পমেয়াদে শেয়ারের দামে ওঠানামা স্বাভাবিক, তাই শুধুমাত্র সাম্প্রতিক উত্থান দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংস্থার মৌলিক ভিত্তি, মূল্যায়ন এবং ঝুঁকি বিবেচনা করা উচিত।



