কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত মেট্রো স্টেশন কবি সুভাষ এখন চরম সংকটে। ব্লু লাইনের দক্ষিণ প্রান্তের এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনটি পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হবে বলে জানাল মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। নতুন করে তৈরি হবে এই স্টেশন, যার জন্য প্রয়োজন হবে অন্তত ৯-১০ মাস। তবে সেই সময় এক বছর পর্যন্ত গড়াতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কেন ভাঙা হচ্ছে স্টেশন?
গত সপ্তাহে স্টেশনটির ২১টি পিলারের মধ্যে অন্তত ৪টিতে ফাটল ধরা পড়ে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ২৯ জুলাই সোমবার থেকে স্টেশনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তদন্তে উঠে আসে, শুধু পিলার নয়, প্ল্যাটফর্মের অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে যাত্রী নিরাপত্তার কথা ভেবেই সম্পূর্ণ স্টেশন নতুন করে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


কত খরচ, কত সময়?
মেট্রো কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ৯ কোটি ৪২ লক্ষ টাকার ই-টেন্ডার জারি করেছে। স্টেশন তৈরির কাজ শুরু হলে কমপক্ষে ৯ থেকে ১০ মাস সময় লাগবে। যদিও অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, সময় এক বছর পর্যন্ত পেরোতে পারে।
দুর্ভোগে নিত্যযাত্রীরা
কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন মূলত নিউ গড়িয়া এবং সংলগ্ন এলাকার যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই স্টেশন থেকে যাতায়াত করেন। স্টেশন বন্ধ থাকায় যাত্রীদের বিকল্প যানবাহনের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। দক্ষিণ শহরতলীর অনেক যাত্রী রেল পরিষেবায় ভরসা রাখলেও তা যথেষ্ট নয়।
পরপর ত্রুটির তালিকা
এই ঘটনা কলকাতা মেট্রোর রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির উপর বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।


-
পার্ক স্ট্রিট মেট্রো স্টেশনে বর্ষায় জমা জল ঢুকে যায় ভূগর্ভে।
-
চাঁদনি চক ও সেন্ট্রালের মাঝে ছাদ থেকে পানি পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
-
কিছুদিন আগেই ঝড়ে কবি নজরুল স্টেশনের শেড উড়ে গিয়েছিল।
এইসব ঘটনার মধ্যে কবি সুভাষ স্টেশনের সংকট মেট্রোর সামগ্রিক রক্ষণাবেক্ষণ নীতির ঘাটতি স্পষ্ট করে তুলছে।
কর্মী ঘাটতিও একটি বড় সমস্যা
সূত্র বলছে, মেট্রো রেলের অনুমোদিত কর্মীর সংখ্যা থেকে প্রায় ৪০% কম কর্মী রয়েছে। এর ফলে প্রতিদিনের রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির কাজেও ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা এই ধরণের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।
এক বছর স্টেশন বন্ধ থাকায় দক্ষিণ কলকাতা ও শহরতলীর সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়বে। স্টেশনটি দ্রুততার সঙ্গে নির্মাণ শেষ করে স্বাভাবিক পরিষেবা চালু করার দাবি তুলছেন যাত্রীরা। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি ও কর্মী সঙ্কটের মধ্যেই কি তৈরি হবে আরও কোনও বিপদ?
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



