ধর্মে ইসলাম, তিনিই বাবরি মসজিদের নীচে খুঁজে পান রাম মন্দির, জানুন এই প্রত্নতত্ত্ববিদকে

ধর্মে ইসলাম হলেও মুহাম্মদ দাবি করেন, বাবরি মসজিদের আগে সেই স্থলে হিন্দুদের একটি প্রাচীন মন্দির ছিল। পেশায় প্রত্নতত্ত্ববিদ মুহাম্মদ কীভাবে প্রমাণ পান মন্দিরের?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পুরো নাম কারিঙ্গামান্নু কুঝিয়ুল মুহাম্মদ, সংক্ষেপে কে কে মুহাম্মদ (K. K. Muhammed)। যিনি না থাকলে হয়তো অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণই হতো না, উদ্বোধন তো দূর অস্ত। তিনিই প্রথম খুঁজে পেয়েছিলেন বাববি মসজিদের নীচে থাকা রাম মন্দিরকে। তাঁর তৈরি রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই সুপ্রিম কোর্ট রাম মন্দির (Ram Mandir) নির্মাণের অনুমতি দেয়। ধর্মে ইসলাম হলেও মুহাম্মদ দাবি করেন, বাবরি মসজিদের আগে সেই স্থলে হিন্দুদের একটি প্রাচীন মন্দির ছিল। পেশায় প্রত্নতত্ত্ববিদ মুহাম্মদ কীভাবে প্রমাণ পান মন্দিরের? এই প্রতিবেদনে রয়েছে সেই সংক্রান্ত কিছু তথ্য।

আরও পড়ুন: উদ্বোধনের দিন রাম মন্দির উড়িয়ে দেবার ছক দুষ্কৃতীদের! গ্রেফতার দাউদ গ্যাংয়ের ১ সদস্য

সালটা ১৯৭৬-৭৭। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একদল ছাত্র রওনা হয়েছিলেন অযোধ্যার উদ্দেশ্যে। সফরটি ছিল যদিও কেবল শিক্ষামূলক। কে কে মুহাম্মদের (K. K. Muhammed) বয়স তখন মাত্র ২৪। ১৯৭৬ সালে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া প্রত্নতাত্ত্বিক খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেছিল। নেতৃত্বে ছিলেন বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক ড: বি বি লাল। তাঁর অধীনেই একজন তরুণ গবেষক হিসেবে যোগ দেন কে কে মুহাম্মদ। মুসলিম হলেও হিন্দু ধর্মের ইতহাস ও মন্দির বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন তিনি।

ধর্মে ইসলাম, তিনিই বাবরি মসজিদের নীচে খুঁজে পান রাম মন্দির, জানুন এই প্রত্নতত্ত্ববিদকে
বাবরি মসজিদ

মালায়লম ভাষায় লেখা নিজের ‘আত্মকথা’-য় কে কে মুহাম্মদ (K. K. Muhammed) জানিয়েছেন, “আমার ১৯৭৬-৭৭ সালের কলেজের দিনগুলো খুব মনে পড়ে। সেই সময় পড়াশোনার কাজে আমি ও কয়েকজন অযোধ্যায় গিয়েছিলাম। প্রফেসর বি বি লালের নেতৃত্বে অযোধ্যায় খনন করা প্রত্নতাত্ত্বিক দলে দিল্লি স্কুল অফ আর্কিওলজির ১২ জন ছাত্রের মধ্য়ে আমিও ছিলাম। খননের পর দেখলাম বাবরি মসজিদের দেওয়ালে মন্দিরের স্তম্ভগুলি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মন্দিরের স্তম্ভগুলি কালো বেসাল্ট পাথর দিয়ে তৈরি। স্তম্ভের নীচে একাদশ ও দ্বাদশ শতাব্দীর মন্দিরগুলিতে দেখা পূর্ণ কলসি দেখা যায়।”

ধর্মে ইসলাম, তিনিই বাবরি মসজিদের নীচে খুঁজে পান রাম মন্দির, জানুন এই প্রত্নতত্ত্ববিদকে
ধর্মে ইসলাম, তিনিই বাবরি মসজিদের নীচে খুঁজে পান রাম মন্দির, জানুন এই প্রত্নতত্ত্ববিদকে

বিভিন্ন রকম সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই প্রত্নতাত্ত্বিক দল একটি সিদ্ধান্তে আসে যে এই মসজিদের নীচে অবশ্যই কোনও এককালে একটি মন্দির ছিল। সেই নিয়েই রিপোর্ট তৈরি করেন কে কে মুহাম্মদ (K. K. Muhammed)। তাঁর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর রাম মন্দির (Ram Mandir) নির্মাণে রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিচারপতি ছিলেন রঞ্জন গগৈ।

ধর্মে ইসলাম, তিনিই বাবরি মসজিদের নীচে খুঁজে পান রাম মন্দির, জানুন এই প্রত্নতত্ত্ববিদকে

হিন্দু মন্দিরের প্রমাণ দেওয়ায় মুসলিম সমাজে অনেক কটাক্ষ শুনতে হয়েছে কে কে মুহাম্মদকে। নিজেই জানিয়েছেন সে কথা। তবুও নিজের পেশা আর সত্যকে উদঘাটনের জন্য কোনও কিছুকেই পরোয়া করেননি তিনি। ২০১২ সালে তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ পুরষ্কারে ভূষিত করে ভারত সরকার। এই মুহূর্তে কাজ থেকেও অবসর নিয়েছেন তিনি। থাকেন নিজের জন্মভূমি কেরালার কালিকটে। বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব যখন ভারতভ্রমণে এসেছেন তখন তাঁদের ট্যুর গাইড হিসাবে কাজ করেছেন কে কে মুহাম্মদ (K. K. Muhammed)। তালিকায় আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশারেফ।

ধর্মে ইসলাম, তিনিই বাবরি মসজিদের নীচে খুঁজে পান রাম মন্দির, জানুন এই প্রত্নতত্ত্ববিদকে
রাম মন্দির

আগামীকাল অর্থাৎ ২২ জানুয়ারি রাম মন্দিরের উদ্বোধন অযোধ্যায় সরযূ নদীর তীরে। সাজো সাজো রব সেখানে। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করবেন রাম মন্দিরের (Ram Mandir)। তার প্রাক্কালে কে কে মুহাম্মদের (K. K. Muhammed) অবদানের কথা একবার স্মরণ করে নেওয়া কি খুব অপ্রয়োজনীয়?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত