নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাম শূন্য বিধানসভায় জ্যোতি বসুর জন্মদিন পালন হল সাড়ম্বরে। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও প্রয়াত জননেতা জ্যোতি বসুর ১০৮ তম জন্মদিন আজ বৃহস্পতিবার পালিত হয়েছে। কলকাতাসহ ভারতের সব জায়গায় বিভিন্ন গণসংগঠন তাঁর জন্মদিন পালন করেছে। কিন্তু বিধানসভা? যে বিধানসভায় জীবনের সব থেকে বড় সময় কাটিয়েছেন তিনি। ২৩ বছর মুখ্যমন্ত্রী ৫ বছর উপমুখ্যমন্ত্রী থেকেছেন সেখানে আজ জন্মদিন পালনের জন্যে নেই কোন বাম সদস্য!
আরও পড়ুনঃ ভোট পরবর্তী হিংসা ও ভুয়ো ভ্যাকসিন, বিধানসভায় খারিজ বিজেপি-র দুই প্রস্তাব।


বাম শূন্য বিধানসভায় জ্যোতি বসুর জন্মদিন পালন করল তৃণমূল বিজেপি। জননেতার জন্মদিন পালিত হল সাড়ম্বরেই। তাঁর ছবিতে ফুল, মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ অন্যান্য বিধায়করা। বামেদের পরোক্ষ প্রতিনিধি তথা একমাত্র ভরসা নওসাদ সিদ্দিকিও এদিন শ্রদ্ধা জানান প্রয়াত জননেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে।
বাম শূন্য বিধানসভায় জ্যোতি বসুর জন্মদিন পালন, বামেদের একমাত্র ভরসা নওসাদ।
নিজেকে জ্যোতি বসুর ফ্যান বলে দাবি করা মদন মিত্র, নিজের গুরুকে শ্রদ্ধা জানান এদিন। এছাড়াও জ্যোতি বাবুর মন্ত্রী সভার দুই সদস্য বঙ্কিম ঘোষ এবং পরেশ অধিকারীও শ্রদ্ধা জানান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে। উল্লেখ্য জ্যোতি বাবুর মন্ত্রী সভার সদস্য হলেও জার্সি বদলে এখন তারা অন্যদলে। বঙ্কিমবাবু এখন বিজেপি বিধায়ক আর পরেশবাবু তৃণমূলের।
১৯৭৭ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত একটানা তেইশ বছর জ্যোতি বসু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই ছিলেন ভারতের দীর্ঘতম মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও ১৯৬৪ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি সিপিআই(এম) এর পলিটব্যুরো সদস্য ছিলেন। ছাত্রাবস্থায় উচ্চশিক্ষার্থে ইংল্যান্ডে গিয়ে কমিউনিস্ট ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ হন বসু। ১৯৪০ সালে গ্রহণ করেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ। ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলা প্রদেশের প্রাদেশিক আইনসভায় কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি রূপে নির্বাচিত হন।



দেশভাগের পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রতিনিধি নির্বাচিত হন বসু। ড. বিধানচন্দ্র রায়ের মুখ্যমন্ত্রীত্বে তিনি হন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা। ১৯৬৪ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির বিভাজনের পর বসু যোগ দেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) দলে। ১৯৬৭ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী হন জ্যোতি বসু। এরপর ১৯৭৭ সালের ২১ জুন শপথ নেন পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। ১৯৯৬ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার নাম বিবেচিত হলেও, তিনি পার্টির সিদ্ধান্তে সেই পদ প্রত্যাখ্যান করেন।
টানা ২৩ বছর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০০০ সালের ৬ নভেম্বর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের হাতে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পণ করে অবসর নেন বসু। এখন সেই জ্যোতি বাবুর বিধানসভা বাম শূন্য। বাম শূন্য বিধানসভায় জ্যোতি বসুর জন্মদিন পালন করল বিজেপি আর তৃণমূল!







