জুবিনের মৃত্যু রহস্যে জট কাটেনি: নেশার তত্ত্ব মানতে নারাজ পরিবার, এ বার মোদীর হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি

জুবিন গার্গের মৃত্যুর প্রায় এক বছর পরেও তদন্ত অসম্পূর্ণ। নেশার তত্ত্ব মানতে নারাজ পরিবার। নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবিতে মোদীর দ্বারস্থ তাঁরা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

গায়ক জু বিন গার্গ-এর মৃত্যুর ঘটনার প্রায় এক বছর কেটে গেলেও তদন্ত আজও শেষ হয়নি। সিঙ্গাপুর পুলিশের প্রাথমিক দাবি— এই মৃত্যুর নেপথ্যে কোনও ষড়যন্ত্র নেই। কিন্তু সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন জ়ুবিনের পরিবার ও অসংখ্য অনুরাগী। তদন্তের গতি থমকে যাওয়ায় এবং একাধিক প্রশ্নের উত্তর না মেলায় এ বার সরাসরি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র দ্বারস্থ হলেন প্রয়াত গায়কের পরিবারের সদস্যেরা।

গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে সাঁতার কাটতে গিয়ে মৃত্যু হয় জ়ুবিন গার্গের। ঘটনার পর অসমের গুয়াহাটিতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়। পাশাপাশি সিঙ্গাপুরেও শুরু হয় তদন্ত। কিন্তু সময় গড়ালেও সেই তদন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন জানিয়ে তাঁরা নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং দ্রুত তদন্তের দাবি তুলেছেন।

অসমের সাংস্কৃতিক জগতে জ়ুবিন গার্গ শুধু একজন গায়ক নন, এক আবেগের নাম। তাঁর মৃত্যুর পর গুয়াহাটির রাস্তায় লক্ষ লক্ষ অনুরাগীর ভিড় সেই জনপ্রিয়তারই প্রমাণ। মোদীকে লেখা চিঠিতে পরিবার জানিয়েছে, জ়ুবিন অসমের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। তাই তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত সত্য জানা শুধু পরিবারের নয়, গোটা রাজ্যের মানুষেরও অধিকার।

দীর্ঘ দিন ধরে মামলা চললেও এখনও সুবিচার অধরাই। ঘটনায় জ়ুবিনের আপ্তসহায়ক ও ব্যান্ডের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হলেও তদন্তের নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে তদন্তপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে। পরিবারের অনুরোধ, যত দিন তদন্ত সম্পূর্ণ না হচ্ছে, অভিযুক্তদের যেন কোনও ভাবেই জামিন না দেওয়া হয়। এই চিঠিতে সই করেছেন জ়ুবিনের স্ত্রী গরিমা শঈকীয়া, বোন পালমী বরঠাকুর এবং কাকু মনোজ বরঠাকুর।

সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের এক তদন্তকারী আধিকারিকের রিপোর্ট নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। সেই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মৃত্যুর সময় ‘মারাত্মক ভাবে নেশাগ্রস্ত’ ছিলেন জ়ুবিন গার্গ। নেশার প্রভাবে সাঁতার কাটতে গিয়ে তিনি বারবার অচেতন হয়ে পড়ছিলেন বলেই দাবি তদন্তকারীর। শেষ পর্যন্ত ইয়টের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করলেও সেখানেই জ্ঞান হারান তিনি। পরে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ পরিবার ও অনুরাগীরা। তাঁদের আশঙ্কা, নেশার তত্ত্ব সামনে এনে প্রকৃত সত্য আড়াল করা হচ্ছে। তাই অসমে চলা তদন্তে পূর্ণাঙ্গ সত্য উদ্‌ঘাটনের আশায় রয়েছেন তাঁরা। পরিবারের দাবি, আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে প্রয়োজনে অতিরিক্ত আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থাও করা হোক। একটাই আবেদন— বিচারে আর যেন বিলম্ব না হয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত