নজরবন্দি ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় তদন্তভার নিল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। এতদিন এই তদন্তের দায়িত্বে ছিল যাদবপুর থানা। এদিন আদালতে পুলিশের তরফে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে বলে খবর। একইসঙ্গে ঘটনার এক মাসের মাথায় ধৃতদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।
আরও পড়ুন: ধূপগুড়িতে হারানো আসন পুনরুদ্ধার তৃণমূলের, উপনির্বাচন জিতে কতটা খুশি নেত্রী মমতা?


গত ৯ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হস্টেল থেকে পড়ে যায় ১৮ ছুঁই ছুঁই ওই পড়ুয়া। হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি, ভোর রাতেই মৃত্যু হয় তাঁর। পরিবারের তরফে র্যাগিংয়ের অভিযোগ তোলা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সৌরভ চৌধুরীকে প্রথম গ্রেফতার করে। এরপর গ্রেফতার করা হয় দ্বিতীয় বর্ষের দুই পড়ুয়া দ্বীপশেখর দত্ত ও মনতোষ ঘোষ। মৃতের মায়ের বয়ানে সৌরভ ও মনোতোষের নাম শোনা গিয়েছিল। এখনও পর্যন্ত পড়ুয়া ও প্রাক্তনী মিলিয়ে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
![]()
ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিভিন্ন জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে র্যাগিংয়ের প্রমাণ পায় ওই কমিটি। অবশেষে শুক্রবার ধৃতদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা করা হয়। পাশাপাশি যাদবপুর থানার হাত থেকে তদন্তভার নিল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত জানা গিয়েছিল, প্রথম বর্ষের ছাত্রের সঙ্গে র্যাগিং হয়েছিল। তাকে বিবস্ত্র করে যৌন কটাক্ষ করা হয়েছিল বলেই অভিযোগ।



উল্লেখ্য, অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি সম্প্রতি ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ করে। রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, চার জন বর্তমান পড়ুয়াকে আজীবন বহিষ্কার করতে হবে। ২৫ জন প্রাক্তনী, যারা এখনও হস্টেলে রয়েছে তাঁদের বের করে দিতে হবে। ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণারত অরিত্র মজুমদার ওরফে ‘আলু’র। কীভাবে তিনি এতদিনের সই করল তাও খতিয়ে দেখার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি র্যাগিংয়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ছাত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
যাদবপুরকাণ্ডে সিট গঠন, ধৃতদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা পুলিশের








