পাহাড়ে শুরু নয়া সমীকরণ? প্রকাশ্যে বিমলকে সমর্থন জন বার্লার! জল্পনা তুঙ্গে

পাহাড়ে শুরু নয়া সমীকরণ? প্রকাশ্যে বিমলকে সমর্থন জন বার্লার! জল্পনা তুঙ্গে

নজরবন্দি ব্যুরো: পাহাড়ে শুরু নয়া সমীকরণ, সত্যি! রাজনীতি বড়ই বালাই। শিয়রে ঝুলছে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন। বাংলার এই ভোটের দিকে পাখির চোখ করে রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি। সেইসঙ্গে নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দল বদলের হিড়িক। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের শাসক দলে প্রতিদিনই কেউ না কেউ বেসুরো হচ্ছেন। তবে আপনি যদি ভেবে থাকেন যে বিজেপি শিবিরেও চাপা দ্বন্দ্ব বা সবকিছু ঠিক আছে তাহলে একবার ভেবে দেখবেন বৈকি। বলতে গেলে সেখানেও ক্রমশই বেসুরো মানুষদের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে।

আরও পড়ুন: ‘স্বাস্থ্যসাথী’ নিয়ে যাবতীয় দ্বিধা দূর করতে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্য এবার খোলা চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

সেই তালিকায় নাম লেখালেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বার্লা। প্রশ্ন উঠছে যে তবে বার্লা কী বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসছেন? এই সব প্রশ্নের উত্তর এখনই পাওয়া সম্ভব নয়। তবে বার্লা মুখ খুলেছেন সংবাদমাধ্যমের সামনে আর যা কিনা গেরুয়া শিবিরের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। ভোট ময়দানে জোর কদমে তৃণমূলের হয়ে প্রচারে নেমে পরেছেন বিমল গুরুং। আর বিরোধী শিবিরের এই নেতাকেই কিনা শেষমেশ সমর্থন করে বলেন জন! তাহলে কি ঘাসফুল শিবির উত্তরবঙ্গে নিজেদের ম্যাজিক শুরু করে দিল? ক্রমেই উঠছে প্রশ্ন।

আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ জন বার্লা জানিয়েছেন, ‘বিমল গুরুঙের সঙ্গে মন থেকে বন্ধুত্ব করেছি। তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল, বন্ধুত্ব থাকবে। ২০০৭ সাল থেকে আমরা বন্ধু। রাজনীতিতে চড়াই উতরাই থাকে। সময় আসলে সব বোঝা যাবে।’ বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিমল গুরুংয়ের প্রসঙ্গে এমনই বলেছেন বার্লা। আর তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ বেশ কয়েক বছরের অজ্ঞাতবাস কাটিয়ে এনডিএ জোট ছেড়ে বেড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রকাশ্যে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন বিমল গুরুং। এমনকী, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচারেও নেমেছেন তিনি। কিন্তু বিজেপি সাংসদের এই মন্তব্যে ফের জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তাহলে কি ফের বিজেপিকে সমর্থন করবে বিমল গুরুং?

এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত, বার্লা কার্যত বুঝতে পেরে গিয়েছেন হাওয়া এখন ঘুরতে শুরু করে দিয়েছে। ২০১৯ সালে বিজেপির পক্ষে উত্তরবঙ্গে যে হাওয়া ছিল তা আর এখন নেই সেখানে। বরং এখন বিজেপি বিরোধীতারই পাল্লাটা ক্রমশ ভারী হচ্ছে সেখানে। আলিপুরদুয়ার লোকসভা আসনের মধ্যে যে ৭টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে সেখানে সব কটি আসনেই ২০১৯ সালে লিড তুলেছে বিজেপি। কিন্তু এবার সামনের বিধানসা নির্বাচনে এই লিড ধরে থাকা বিজেপির কাছে খুবই চাপের।

পাহাড়ে শুরু নয়া সমীকরণ, কারণ ২০১৯ সালের নির্বাচনে আদিবাসী ও নেপালিদের ভোট পড়েছিল একই বাক্সে। কিন্তু এবার গুরুং বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচারে নেমেছেন। পণ করেছেন পাহাড় আর ডুয়ার্স মিলিয়ে ১৮টি আসন তিনি তুলে দেবেন তৃণমূলনেত্রীর হাতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x