নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে ফের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেপ্তার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সোমবার সকালে আন্দি গ্রামে তাঁর বাড়িতে হানা দেয় ইডি। প্রায় ছয় ঘণ্টা টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিধায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। সোমবারই ব্যাঙ্কশাল আদালতের বিশেষ ইডি কোর্টে তোলা হবে তাঁকে।
এর আগে জীবনকৃষ্ণ সাহা শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। অভিযোগ উঠেছিল, তিনি প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে নিজের মোবাইল ফোন বাড়ির পিছনে পুকুরে ছুড়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু তদন্তকারীদের হাত থেকে রেহাই পাননি। সেসময় তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ছিল, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে মোটা টাকার বিনিময়ে চাকরির সুপারিশ করেছিলেন তিনি। সিবিআই দাবি করেছিল, তাঁর বাড়ি থেকে সেই প্রমাণও উদ্ধার হয়েছিল।


গত বছর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পান বিধায়ক। তবে সোমবার সকালে ফের একই কাহিনি। ইডির দলকে দেখে নাকি পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। এমনকি আবারও মোবাইল ফোন পুকুরে ছুড়ে দেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁকে আটক করেন। এরপর টানা জিজ্ঞাসাবাদে কোনও সদুত্তর না মেলায় ইডি তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
ইডি সূত্রে খবর, চাকরি বিক্রির টাকা সরাসরি জীবনকৃষ্ণ সাহার অ্যাকাউন্টে এসেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে আত্মীয়-পরিজন এবং ঘনিষ্ঠদের অবৈধভাবে চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন বিধায়ক—এমন প্রমাণও নাকি রয়েছে তদন্তকারীদের হাতে।
রাজনৈতিক মহলে এই গ্রেপ্তারি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। একদিকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা, অন্যদিকে বিরোধীরা আরও একবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলাকে হাতিয়ার করে শাসককে চাপে ফেলতে চাইছে।


আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনকৃষ্ণ সাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি শুধু বিধায়ক পদই হারাবেন না, বরং ফৌজদারি অপরাধে কঠোর সাজাও হতে পারে। এই মুহূর্তে ইডির হেফাজতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে। এরপর ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হবে।







