নজরবন্দি ব্যুরোঃ আগাগোড়া তিনি সমালোচক বলেই পরিচিত। কখনও সরব হয়েছেন বামেদের বিরুদ্ধে। এমনকি কেন্দ্রের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের সচিব পদে থাকাকালীন মোদি সরকারকে তুলোধনা করতে পিছপা হননি। এখন আবার তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ হয়েও সমালোচনা করছেন দলের। যা নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় শাসক দল। এবার রাজ্যসভার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে সরানো হল জওহরকে। তৃণমূলের অন্দর থেকে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Amit Shah: ‘India Biggest PAPPU’, অভিষেকের বক্তব্যকে হাতিয়ার, অভিনব প্রতিবাদ তৃণমূলের


কিছুদিন আগেই দলের সমালোচনা করে সাংসদ জওহর সরকার বলেন, রাজনীতির কায়দা আমি বুঝি না। আমার আবেদন থাকবে, যারা ধরা পড়ছে, যারা ধরা পড়তে পারে, যারা দুর্নীতিগ্রস্ত, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। একুশের সময় বলেছিলেন, কাটমানির কথা। অনেকে ফেরত দিয়েছে। আমাদের সেই নীতি মানতেই হবে। রাজনীতির নামে টাকা বানাব। বান্ধবীর নামে ফ্ল্যাট কিনব, মানা যায় না। পার্থকে আমি চিনি। কিন্তু বিশ্বাস করতেই পারছি না। দুর্নীতির টাকা দিয়ে এ ভাবে অলঙ্কৃত করা, কেমন গা শিরশির করে।
তিনি আরও বলেন, কারও বাড়ি থেকে এত টাকা বেরোতে পারে! কল্পনার অতীত। এমন দুর্নীতির সিন টিভিতে কম দেখা যায়। বাড়ির লোক সঙ্গে সঙ্গে বলল, রাজনীতি ছেড়ে দাও। সাংসদ পদ ছেড়ে দাও। বাড়ির লোক তো বলছে, এখুনি ছেড়ে দাও বাপু! বন্ধুরা টিপ্পনি কাটলো।

রাজ্যসভার সাংসদের কথায়, তুই তৃণমূলে এখনও আছিস? কত পেয়েছিস? এমন লাঞ্ছনা জীবনে কোনওদিন শুনতে হয়নি। আমি বাইরে থেকে রাজনীতিতে এসেছি। একুশের ঢেউ দেখে। আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় শত্রু ফ্যাসিস্ট শক্তি, বিজেপি। চাকরি জীবনেও দেখেছি, একটা অংশ চোর ছিল। সব পেশায় একটা শ্রেণি থাকে, যারা ধাপ্পাবাজি করতে এসেছে। রাজনীতিতেও করছে।


পাল্টা সুর চড়িয়ে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, উনি তাঁদের সঙ্গে থাকুন। তৃণমূলে আছেন কেন? সাহস থাকলে পদত্যাগ করুন রাজ্যসভা থেকে। তাতে অবশ্য উনি লাকি। একটা সরকারি পেনশন পাচ্ছেন, রাজ্যসভারও পেনশন পাবেন। কিন্তু কমপক্ষে সুবিধাভোগটা বন্ধ করুন। নিজে বলছেন তো ছেড়ে দিন। উনি গেলে কিছু ক্ষতি হবে না। লাভই হবে। এরকম লোক আত্মকেন্দ্রিক। স্বার্থপর লোকের থাকা উচিত নয়।
বর্ষীয়ান সাংসদের কথায়, জওহর সরকারের মতো লোক, এরা নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছু বোঝে না। জওহর সরকার একদিনের জন্যে রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার আগে তৃণমূলের মিছিলে হাঁটেননি। উনি যখন দিল্লিতে তথ্য ও সম্প্রচারের সচিব ছিলেন, একটাও উপকার করেননি। আপনারা চান না ওর কাছে। জওহর কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারের মন্ত্রকের সচিব ছিলেন রবীন্দ্রনাথের দেড়শো বছর হয়েছিল। তখন যাদের বিদেশে পাঠিয়েছিলেন, তখনকার নেতাদের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের যোগ ছিল?
রাজ্যসভার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে সরানো হল জওহরকে, বিরাট জল্পনা

সরাসরি জওহর সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে সৌগত রায় বলেন, জওহর সরকার বলছেন মোদির চোখে চোখ রেখে কথা বলতে চান। কে ও? ওর কথার কী গুরুত্ব রয়েছে? এরা নিজেদের স্বার্থ যতক্ষণ চলবে ততক্ষন অবধি তৃণমূলকে ব্যবহার করে সংসদে দুই লক্ষ টাকা বেতন পাবে। বিলেতে যাতায়ত করবে তখন ঠিক আছে। যেই একটু দলের খারাপ সময় তখন সমালোচনা করে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলবেন।







