জনতার দরবারে এসে চোখে জল নিয়ে অভিযোগ জানালেন ভবানীপুরের এক অশীতিপর বৃদ্ধ। তাঁর দাবি, জমি দিয়েও আজ পর্যন্ত ফ্ল্যাট পাননি তিনি। সোমবার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে হাজির হয়ে জয় কামদার ও সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তোলেন প্রবীর মুখোপাধ্যায়। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সোমবার সকাল থেকে সল্টলেকের বিজেপি দফতরে আয়োজিত ‘জনতার দরবার’-এ বিভিন্ন জেলার মানুষ নিজেদের সমস্যা নিয়ে উপস্থিত হন। সেই ভিড়ের মধ্যেই নজর কাড়ে ৮১ বছরের প্রবীর মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ।
বৃদ্ধের দাবি, নিজের পৈতৃক জমি প্রোমোটিংয়ের জন্য দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই জমিতে বহুতল তৈরি হলেও প্রতিশ্রুত ফ্ল্যাট আজও পাননি। অভিযোগের নিশানায় রয়েছেন ব্যবসায়ী জয় কামদার ও বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু।

প্রবীরবাবুর কথায়, “আমাকে ফ্ল্যাট দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। পরে নানা অজুহাতে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়। এমনকি গ্রেফতার হওয়ার আগে ১৭ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল।”
বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়াবাড়িতে থাকেন বলে জানান ওই বৃদ্ধ। তবে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পর কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিন শুধু প্রবীর মুখোপাধ্যায় নন, চাকরিহারা শিক্ষক, কারিগরি শিক্ষাকর্মী এবং অনাথদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত দাবিও ওঠে জনতার দরবারে।
২৬ হাজার চাকরিহারার প্রতিনিধিদের তরফে সুমন বিশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষায় দীর্ঘদিন স্থায়ী নিয়োগ বন্ধ থাকার অভিযোগ তুলে ধরেন মলয় সিংহ রায়।
রাজ্যের কিছু চাকরিতে অনাথদের সংরক্ষণ পুনর্বহালের দাবিও জানানো হয় শুভেন্দুর কাছে। উপস্থিত প্রত্যেকের বক্তব্য মন দিয়ে শোনেন মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেন।
প্রসঙ্গত, প্রতি সোমবার সল্টলেকের বিজেপি দফতরে ‘জনতার দরবার’ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনার এই কর্মসূচিতে এদিনও ব্যাপক ভিড় হয়। নিরাপত্তারক্ষীদের কার্যত হিমশিম খেতে হয় পরিস্থিতি সামলাতে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত সপ্তাহেই দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ভয় দেখিয়ে কম দামে জমি ও সম্পত্তি হাতানোর একটি বড় চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। আদালতে ইডি জয় কামদার ও এক পুলিশ আধিকারিকের নামও উল্লেখ করে।
সব মিলিয়ে জনতার দরবারে ওঠা এই অভিযোগ নতুন করে জমি, প্রোমোটিং এবং প্রতারণা চক্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি অভিযোগ জানানোর মঞ্চ হিসেবে শুভেন্দুর এই উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে।



