চাকরি, নিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার আবহে সোমবার সকালে সল্টলেকে দেখা গেল অন্য ছবি। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিতে ভিড় জমালেন চাকরিপ্রার্থী, চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। প্রত্যাশা একটাই— সরাসরি প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে নিজেদের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়া।
সোমবার সকালে শুভেন্দু অধিকারী-র সঙ্গে দেখা করতে সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন চাকরিপ্রার্থীরা। সূত্রের দাবি, অন্তত ১৫টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পৌঁছন। ভিড় সামলাতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদেরও অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হয়।
ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যা সরাসরি শোনার উদ্দেশ্যে ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রতি সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন এবং নির্দিষ্ট সময় ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন।
এ দিন উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন নিয়োগ সংক্রান্ত আন্দোলনে যুক্ত চাকরিপ্রার্থীরা, পাশাপাশি আদালতের নির্দেশের জেরে চাকরি হারানো শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের প্রতিনিধিরাও। তাঁদের একাংশ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দ্রুত সমাধান এবং যোগ্য প্রার্থীদের জন্য স্পষ্ট পদক্ষেপের দাবি জানান।
চাকরিপ্রার্থীদের এক প্রতিনিধি জানান, আগের প্রশাসনের কাছে বহুবার দেখা করার চেষ্টা করেও সুযোগ পাননি বলে তাঁদের অভিযোগ ছিল। এবার সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাওয়ায় তাঁরা নিজেদের সমস্যা তুলে ধরতে পেরেছেন বলে দাবি করেন।
এ দিন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির একাধিক নেতা-নেত্রীও। তাঁদের মধ্যে ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়-সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব। প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনাও করেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত সপ্তাহেও একই কর্মসূচি হয়েছিল এবং সেখানে অংশ নেওয়া কয়েক জন দাবি করেছিলেন, তাঁরা সমস্যার কথা সরাসরি জানাতে পেরে স্বস্তি পেয়েছেন। তবে চাকরি, নিয়োগ ও পুনর্বহালের মতো জটিল বিষয়ে প্রশাসনিক স্তরে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তার উত্তর মিলবে আগামী দিনেই।



