প্রজাতন্ত্র দিবসের আগেই বড় সাফল্য! জম্মু-কাশ্মীরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিকেশ জইশ জঙ্গি, নাশকতার ছক বানচাল

সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে জইশ জঙ্গি নিকেশ। কিশ্তওয়ারে এখনও চলছে তল্লাশি, উদ্ধার গোপন ডেরা ও বিপুল রসদ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে নাশকতার আশঙ্কা যখন সর্বোচ্চ স্তরে, ঠিক তখনই বড় সাফল্যের দাবি নিরাপত্তা বাহিনীর। জম্মু ও কাশ্মীর-এর কাঠুয়া জেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে এক জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি নিকেশ হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, এই জঙ্গি সাধারণতন্ত্র দিবসকে সামনে রেখে নাশকতার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিল। আগাম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে সম্ভাব্য বড়সড় হামলা বানচাল করা সম্ভব হয়েছে।

শুক্রবার কাঠুয়া জেলার বিল্লাওয়ার এলাকায় জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ, ভারতীয় সেনা এবং সিআরপিএফ যৌথভাবে অভিযান চালায়। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, নিহত জঙ্গি পাকিস্তানি নাগরিক এবং নিষিদ্ধ সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল।

সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সাধারণতন্ত্র দিবস ঘিরে নাশকতার সম্ভাবনার কথা জানায়। সেই সতর্কতার পরই উপত্যকা জুড়ে তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানো হয়। বিল্লাওয়ারে জঙ্গিদের একটি গোপন আস্তানার হদিস মিলেছিল দিন দশেক আগেই। সেই সূত্র ধরেই শুক্রবারের অভিযান।

নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, নির্ভরযোগ্য সূত্র মারফত খবর পাওয়া যায় যে এক জঙ্গি ওই এলাকায় আত্মগোপন করে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। চারদিক থেকে ঘেরাও হওয়ায় পালানোর কোনও সুযোগ পায়নি জঙ্গিটি। সংঘর্ষে সে নিহত হয়।

একই সঙ্গে জম্মু বিভাগের কিশ্তওয়ার জেলার পাহাড়ি জঙ্গল এলাকায়ও জোরদার অভিযান চলছে। সেনা সূত্রে খবর, গভীর জঙ্গল ও খাড়া পাহাড়ি অঞ্চলে সইফুল্লা এবং আদিল নামে দুই জইশ জঙ্গি আত্মগোপন করে থাকতে পারে বলে সন্দেহ। সেই এলাকায় গত কয়েক দিন ধরেই তল্লাশি অভিযান চলছে।

প্রসঙ্গত, চার দিন আগেই কিশ্তওয়ারে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে ভারতীয় সেনার এক জওয়ান শহিদ হন। সেই ঘটনার পর থেকে ওই অঞ্চলে অভিযান আরও তীব্র হয়েছে। তল্লাশি অভিযানে জঙ্গিদের একটি সুপরিকল্পিত গোপন ডেরার সন্ধান পেয়েছে সেনা।

সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের ঢালে গাছের আড়ালে অত্যন্ত কৌশলে বাঙ্কারটি তৈরি করা হয়েছিল। এমনভাবে নির্মাণ করা হয় যে উল্টো দিক থেকে হামলা হলেও তা প্রতিরোধ করা সম্ভব। ওই গোপন ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫০ প্যাকেট ম্যাগি, প্রচুর কাঁচা সবজি, চাল, রান্নার সরঞ্জাম ও শুকনো কাঠ।

উদ্ধার হওয়া রসদ দেখে সেনার অনুমান, জঙ্গিরা দীর্ঘদিন ধরেই ওই ডেরায় আত্মগোপন করে ছিল এবং কয়েক মাসের জন্য খাবার মজুত রাখা হয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, স্থানীয় সহযোগিতা ছাড়া এত দুর্গম এলাকায় বাঙ্কার তৈরি ও রসদ জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব। ফলে স্থানীয় নেটওয়ার্কের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।

সার্বিকভাবে, সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে এই অভিযানকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় সাফল্য বলেই মনে করছে প্রতিরক্ষা মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত