কল্যাণের বেনজির আক্রমণ, বাংলার মানুষকে বিচার ভার দিলেন অপমানিত ধনখড়

কল্যাণের বেনজির আক্রমণ, বাংলার মানুষকে বিচার ভার দিলেন অপমানিত ধনখড়
কল্যাণের বেনজির আক্রমণ, বাংলার মানুষকে বিচার ভার দিলেন অপমানিত ধনখড়

নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাংলায় রাজ্য-রাজ্যপালের সম্পর্ক প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক। যে কোন সিদ্ধান্তে সিল্মোহরের আগে চলে এক প্রস্ত বিতর্ক। তৈরি হয় নতুন জল্পনা এবং সমীকরণ। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী  হওয়ার পর জগদীপ ধনখড়ের প্রতিক্রিয়া ছিলো ছোট বোনের জয়ের আনন্দ। তবে তা বদলেগেছে মাত্র ক’দিনেই। তার পর থেকে বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা হোক বা নারদ মামলা, রাজ্য-রাজ্যপালের দ্বন্দ এসেছে চরমে।

আরও পড়ুনঃ পদত্যাগ করলেও দায়িত্বে অনড়, উদ্যোগী কৃষিমন্ত্রী ঝড়ের আগেই কাটাচ্ছেন ধান

সেই দ্বন্দ তিক্ততা একধাপ বেড়েছে আজ সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জীর মন্তব্যে। মেয়াদ ফুরোলেই জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রাজ্যপালকে বেনজির আক্রমন করেছেন কল্যান। ঘটনার সূত্রপাত নারদ মামলায় তৃণমূল নেতা মন্ত্রীদের গ্রেপ্তারিতে রাজ্যপালের সম্মতি দান। সেই সময় ‘পাগলা কুকুর’ বলে আক্রমণ শানিয়েছিলেন কল্যাণ। আর এবার ফের বেনজির আক্রমন করে ‘রক্তচোষা’ বলে রাজ্যপালকে কটাক্ষ করেছেন সাংসদ।

রবিবার কল্যাণবাবু বলেন, “উনি (রাজ্যপাল) জেনেবুঝে, ইচ্ছাকৃত বাংলার ক্ষতি করে চলেছেন। আর কোনও রাজ্যপাল এমন করেন না। রাজ্যপাল সকাল থেকে সন্ধে তৃণমূলের পিছনে পড়েছে। উনি ‘রক্তচোষা’। রাজ্যপালের ফোন টেলিফোন, ওনার সঙ্গে যাঁরা থাকেন। তাঁদের ফোন খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে গ্রেপ্তারির পিছনে উনিই রয়েছেন।” সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপালের বিরুদ্ধে কোনও মামলা করা যায় না।

সেই প্রসঙ্গে আইনজীবী কল্যান ব্যানার্জী বলেন, “আমি জানি এখন ওনার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে আমি সবাইকে বলছি সব থানায় ধনকড়ের বিরুদ্ধে মামলা করুন। উনি যখন রাজ্যপাল থাকবেন না, তখন কেস শুরু করা যাবে। বলা যায় না, হয়তো প্রেসিডেন্সি জেলেই ওনার ঠাঁই হবে।” বিতর্কের শুরু এই মন্তব্যে। ইতিমধ্যে এর প্রেক্ষিতে মন্তব্য করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

এবার আসরে নামলেন খোদ রাজ্যপাল। আইনজীবী-সাংসদের রাজ্যপালের প্রতি এই মন্তব্যে স্তম্ভিত জগদীপ ধনখড় ট্যুইট করে নিজের বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। জানিয়েছে্ন রাজ্যের সাংসদের এহেন মন্তব্যে অপমানিত তিনি। ট্যুইটে রাজ্যপাল লিখেছেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতা। প্রবীণ সাংস, একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী, তাঁর মুখে এমন কথা শুনে তিনি স্তম্ভিত, তবে এবার কোন হুঁশিয়ারি দেননি রাজ্যপাল। মানুষের হাতে বিচার ছেড়ে দিয়ে লিখেছেন  ‘বাংলার সংস্কৃতিবান মানুষই এর বিচার করবেন।‘

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here