ইরানের পর এবার পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র ধ্বংসের পরিকল্পনা নিচ্ছে ইজরায়েল!

ইরানের পর সংঘর্ষবিরতি, এবার পাকিস্তানের আণবিক ক্ষমতা নিয়ে চিন্তায় তেল আভিভ

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘর্ষে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এবার পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রভান্ডার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল ইজরায়েল। সম্প্রতি প্রাক্তন ইজরায়েলি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেইর মাসরি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, “আমরা ইরান পর্যন্ত পৌঁছে গেছি, এবার পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমাগুলিকে ধ্বংস করতে হবে।”

এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর ইসলামাবাদে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডাকেন। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ইজরায়েলের নজর এখন সরাসরি পাকিস্তানের ‘ইসলামিক বোমা’-র উপর।

ইসলামিক পরমাণু অস্ত্র: কেন ইজরায়েলের মাথাব্যথা?

ইজরায়েলের মতে, পাকিস্তান ও ইরান দুই দেশই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে মদত দেওয়াজঙ্গি সংগঠনকে পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত। তাছাড়া পাকিস্তান কখনোই ইজরায়েলকে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেয়নি এবং বরাবর প্যালেস্টাইনের পাশে থেকেছে।

প্রাক্তন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বহু আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, “যে ইসলামিক দেশগুলি সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত, তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা ইজরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি।”

ইতিহাসে ইজরায়েলের পরমাণুবিরোধী কৌশল

ইজরায়েলের ইতিহাস বলে, তারা কখনোই শত্রু দেশের পরমাণু কর্মসূচি সহজে মেনে নেয়নি।

১৯৮১ সালে ইরাকের ওসিরাক পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংস করে ‘অপারেশন অপেরা’

২০০৭ সালে সিরিয়ার পরমাণু ঘাঁটিতে সফল বোমাবর্ষণ

২০২4 সালের জুনে ইরানের কেন্দ্রগুলিতে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’

এই ধারাবাহিকতাতেই এবার ইঙ্গিত মিলছে পাকিস্তানের দিকেও নজর দিচ্ছে তেল আভিভ।

পাকিস্তান: পরমাণু শক্তিধর মুসলিম রাষ্ট্র

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের কাছে পরাজয়ের পর পাকিস্তান পুরোদমে পরমাণু বোমা তৈরির পথে এগোয়। জুলফিকার আলি ভুট্টো ঘোষণা করেছিলেন, “আমরা একটি ইসলামিক বোমা তৈরি করছি, যা সমগ্র মুসলিম দুনিয়ার সম্পদ।”

এই ঘোষণায় ইজরায়েল তৎপর হয়। এমনকি, ভারত ও মোসাদের যৌথ মিশনে পাকিস্তানের পরমাণুকেন্দ্রে আক্রমণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল ১৯৮০ সালে। যদিও শেষপর্যন্ত সেই অভিযান হয়নি।

বর্তমানে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রগুলি মূলত পঞ্জাব ও বালোচিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে মজুত আছে। যা ইজরায়েলি যুদ্ধবিমানের আক্রমণের নাগালের মধ্যে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজনৈতিক বিপর্যয় কি আসন্ন?

বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানকে আক্রমণ করা ইরাক বা সিরিয়ার মতো সহজ হবে না। কারণ, ইসলামাবাদ এখন সম্পূর্ণভাবে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র। একবার হামলা হলে তা দক্ষিণ এশিয়ায় বিপজ্জনক যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান বহুবার আমেরিকার মিত্র থেকেছে। ফলে ইজরায়েলের একতরফা হামলা ওয়াশিংটনের স্বার্থের সঙ্গে সংঘাতে আসতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

‘বেগিন ডকট্রিন’ আবারও কি সক্রিয়?

ইজরায়েলের ‘বেগিন ডকট্রিন’ অনুসারে, যেকোনো রাষ্ট্র যদি ইজরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আগাম আক্রমণ বৈধ। এই নীতির ভিত্তিতেই মিশর, ইরাক, সিরিয়া এবং ইরানে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল।

তবে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এমন পদক্ষেপ যে আরও বড় কূটনৈতিক সংকট তৈরি করবে, তা স্পষ্ট।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর