মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। শুক্রবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক শহরে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। পরপর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানী, পাশাপাশি সিরাজ ও আহভাজ শহরেও হামলার খবর সামনে এসেছে। ইজরায়েলের দাবি, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধ করা।
তেল আভিভ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই হামলা চালানো হয়। বিশেষ করে সিরাজ শহরে মাটির নীচে থাকা একটি গোপন বাঙ্কার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইজরায়েলি সেনা। তাদের দাবি, ওই বাঙ্কারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি এবং সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। সেই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইজরায়েলের উপর বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা চলছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

শুধু সিরাজ নয়, তেহরানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইজরায়েল। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ কারখানাগুলিকেও নিশানা করা হয়েছে বলে খবর।
এই ঘটনার মধ্যেই তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি বিস্ফোরণের ঘটনাও সামনে আসে। জানা গিয়েছে, ‘কুর্দ দিবস’ উপলক্ষে একটি বড় মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে বহু মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। সেই সময় আচমকাই বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এলাকা। যদিও বিস্ফোরণের সঠিক উৎস এখনও স্পষ্ট নয় এবং এর সঙ্গে ইজরায়েলের হামলার সরাসরি কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এদিকে হামলার পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়তে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, ইরানের বিদেশমন্ত্রী Seyed Abbas Araghchi ফোনে কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী Subrahmanyam Jaishankar-এর সঙ্গে। আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।


ইরানের বিদেশমন্ত্রী কথোপকথনে তেহরানের উপর লাগাতার হামলার বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের এই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আরাঘচি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে এবং সেই অধিকার প্রয়োগে তেহরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ।









