বহরমপুরের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার আগুন জ্বালালেন কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী। দীর্ঘদিন পর হঠাৎই তিনি পা রাখলেন তাঁর পুরনো ঠিকানা ‘চৌধুরী ভিলা’য়। আর সেই মুহূর্ত থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—তবে কি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হতে চলেছেন অধীর?
বহরমপুর শহরের গোরাবাজারে অবস্থিত ‘চৌধুরী ভিলা’ একসময় অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল। এখানেই বসেই তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বৈঠক করেছেন এবং এখান থেকেই লোকসভা নির্বাচনের লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়েছেন। বহুবার কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সময়ও এই বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল তাঁর রাজনৈতিক সফর।


জানা যায়, বাড়িটির একতলার একটি ছোট ঘর ছিল দলের ‘কোর কমিটি’ বৈঠকের জায়গা। সেখানে বসেই জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হত। তবে সময়ের সঙ্গে নানা কারণে অধীর চৌধুরী এই বাড়িতে থাকা বন্ধ করে দেন এবং দীর্ঘদিন ধরেই প্রায় বন্ধ অবস্থায় পড়ে ছিল ‘চৌধুরী ভিলা’।
বুধবার সকালে আচমকাই জেলা কংগ্রেসের তরফে ঘোষণা করা হয় যে অধীর চৌধুরী ওই বাড়িতেই সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এতদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হত জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে। তাই হঠাৎ করে এই পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।
বর্তমানে বহরমপুরে এলে তিনি সাধারণত কাশিমবাজারের একটি বাড়িতে থাকেন। সেখান থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের আগে জেলা কংগ্রেস কার্যালয় ছেড়ে ‘চৌধুরী ভিলা’য় সাংবাদিক বৈঠক করায় অনেকেই মনে করছেন এর পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক বার্তা।


২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের কাছে পরাজিত হন অধীর চৌধুরী। তবে সেই পরাজয়ের পর কিছুদিন নীরব থাকলেও গত কয়েক মাস ধরে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি।
জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে কংগ্রেস সংগঠনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন এবং প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, লোকসভা ভোটে পরাজিত হলেও বহরমপুর বিধানসভা এলাকায় প্রায় ১১ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন অধীর চৌধুরী। তাই অনেকেই মনে করছেন, বিধানসভা নির্বাচনে তিনি এই কেন্দ্র থেকেই লড়াই করতে পারেন।
যদিও এই জল্পনা নিয়ে অধীর চৌধুরী নিজে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, অনেকেই বলছিলেন যে মাঝে মাঝে ‘চৌধুরী ভিলা’ ব্যবহার করা উচিত, তাই তিনি সেখানে এসেছেন। ‘লাকি’ বা ‘আনলাকি’ তত্ত্বে তিনি বিশ্বাস করেন না বলেও মন্তব্য করেন।
এদিকে রাজনৈতিক মহলেও এই সম্ভাবনা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বলেছেন, অধীর চৌধুরী যদি বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হন, তবে তাঁকে জেতাতে তিনি সর্বশক্তি প্রয়োগ করবেন।







