রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে সময় পেল না তৃণমূল, শিলিগুড়ি সফর ঘিরে কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত আরও তীব্র

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে আবেদন করেও সময় পেল না তৃণমূলের সাংসদরা। শিলিগুড়ি সফর ও প্রোটোকল বিতর্ক ঘিরে কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত আরও তীব্র।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পশ্চিমবঙ্গ সফর ঘিরে শুরু হওয়া কেন্দ্র–রাজ্য রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র আকার নিচ্ছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েও তা না পাওয়ায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও ‘সময়ের অভাব’-এর কথা জানিয়ে সেই আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এর পরেই আবার নতুন করে সাক্ষাতের সময় চেয়ে আবেদন জানিয়েছে রাজ্যের শাসক দল।

সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র নির্দেশেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্যোগ নেয় তৃণমূল। গত ৯ মার্চ তৃণমূলের সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির কাছে সাক্ষাতের সময় চেয়ে আবেদন জানায়। সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আদিবাসী কল্যাণমূলক বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করতে চান তাঁরা।

জানা গিয়েছে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় নেতৃত্বের নির্দেশে রাজ্যসভার সাংসদ Derek O’Brien রাষ্ট্রপতি ভবনে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তবে রাষ্ট্রপতির দপ্তর ‘সময়ের অভাব’-এর কারণ দেখিয়ে সেই আবেদন খারিজ করে দেয় বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও তৃণমূলের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি Droupadi Murmu-র সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ব্রেকফাস্ট বৈঠকের জন্য সময় চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই বিষয়ে কোনও সময় দেওয়া হয়নি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতির শিলিগুড়ি সফর ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গে একটি আদিবাসী কল্যাণ সংক্রান্ত বেসরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। সেই সফরের পর থেকেই প্রোটোকল ইস্যুতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়।

শিলিগুড়ির কাছে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি প্রশ্ন তোলেন, কেন বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের কোনও মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এমন জায়গায় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল যেখানে অনেক আদিবাসী মানুষের পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়ে।

এছাড়াও রাষ্ট্রপতি ইঙ্গিত দেন, কেন্দ্রীয় সরকারের আদিবাসী কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যের সব মানুষের কাছে ঠিকমতো পৌঁছচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

রাষ্ট্রপতির এই অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাষ্ট্রপতির মন্তব্য ‘রাজনৈতিক’ এবং তাঁর সাংবিধানিক পদমর্যাদার সঙ্গে তা মানানসই নয়। তিনি দাবি করেন, যে অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটি একটি বেসরকারি সংস্থা আয়োজন করেছিল এবং সেখানে রাজ্য সরকারের সরাসরি কোনও ভূমিকা ছিল না।

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও বাড়তে শুরু করেছে। বিজেপির অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাষ্ট্রপতির প্রতি যথাযথ সম্মান দেখায়নি। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পাল্টা দাবি, রাষ্ট্রপতির পদকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন