পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ভয়াবহ মোড় নিল। ইজ়রায়েলের হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারির অল্প সময়ের মধ্যেই আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল ইরানের বিরুদ্ধে। বাহারিনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে একাধিক মিসাইল আছড়ে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং গোটা অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
কোথায় হামলা হল?
হামলার লক্ষ্য ছিল United States Fifth Fleet-এর সদর দপ্তর, যা বাহারিনের জুফায়ের এলাকায় অবস্থিত। পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর ও আরব সাগর অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অন্যতম কেন্দ্র এই ঘাঁটি। কৌশলগতভাবে এটি আমেরিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিগুলির একটি।
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মিসাইল হামলায় ঘাঁটির একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একসঙ্গে একাধিক দেশে হামলার দাবি
সংবাদমাধ্যমের খবর, শুধু বাহারিন নয়—
-
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবুধাবি ও দুবাই
-
কাতারের দোহা
-
সৌদি আরবের রিয়াধ
এই শহরগুলিতেও হামলার চেষ্টা বা বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। যদিও ইরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি।
কেন এই হামলা?
এর আগে তেহরানের একাধিক এলাকায় ইজ়রায়েলের মিসাইল হামলার পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরান সতর্ক করেছিল, পশ্চিম এশিয়ায় যেখানে যেখানে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলি লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সেই সতর্কবার্তার কিছুক্ষণের মধ্যেই হামলার ঘটনা সামনে আসে।
ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Israel Katz দাবি করেন, সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতেই প্রতিরোধমূলক অভিযান চালানো হয়েছিল।
সম্ভাব্য নতুন লক্ষ্যবস্তু
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, অঞ্চলের আরও মার্কিন ঘাঁটি ঝুঁকির মুখে—
-
কাতারের Al Udeid Air Base
-
কুয়েতের Al Salem Air Base
-
জর্ডানের Muwaffaq al-Salti Air Base
এই ঘাঁটিগুলিতে হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ইয়েমেনেও উত্তেজনা
ইরান-সমর্থিত Houthi movement গোষ্ঠী ইজ়রায়েলের দিকে ব্যালেস্টিক মিসাইল ছোড়ার দাবি করেছে। পাশাপাশি লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথেও হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বড় উদ্বেগ।
আমেরিকার প্রতিক্রিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু করেছে ওয়াশিংটন। তাঁর দাবি, মার্কিন নাগরিক এবং মিত্র দেশগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।
সংঘাতের বিস্তার নিয়ে আশঙ্কা
তেহরানে পরপর বিস্ফোরণের পর বাহারিনে পাল্টা হামলা— ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাত এখন সরাসরি আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে এগোতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা, ইরান ও ইজ়রায়েল জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি দ্রুত বিশ্বরাজনীতির বড় সংকটে পরিণত হতে পারে।
এখন নজর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সম্ভাব্য পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের দিকে।



