ইরানের নয়া সুপ্রিম লিডার মোজতবার মৃত্যু সময়ের অপেক্ষা, নেতানিয়াহুর বার্তা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি ইরানের নয়া সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইয়ের। পাল্টা কড়া বার্তা নেতানিয়াহুর— তেহরানের শাসন ব্যবস্থাকে উৎখাতের ইঙ্গিত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে উদ্বেগ, অন্যদিকে ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইয়ের কড়া বার্তা— কোনও পরিস্থিতিতেই হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না। এর মাঝেই সরাসরি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডারকে কোনও রেয়াত করা হবে না এবং তেহরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার ইরানকে উদ্দেশ করে কড়া বার্তা দেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান প্রত্যাশার চেয়েও সফল হয়েছে এবং সেই অভিযানের ফলে ইজরায়েল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “ইরানের সুপ্রিম লিডারকে কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না।”

একই সঙ্গে ইরানের শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, তেহরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থার কোনও “লাইফ ইন্স্যুরেন্স” নেই। তাঁর মতে, এই শাসনকে উৎখাত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই রাস্তায় ও বিভিন্ন চেকপয়েন্টে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এবং বাসিজ বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইকে কটাক্ষ করতেও পিছপা হননি নেতানিয়াহু। তাঁর অভিযোগ, খামেনেই আসলে আইআরজিসির ‘পুতুল’। তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নতুন সুপ্রিম লিডার প্রকাশ্যে কোথাও উপস্থিত হতেও পারছেন না।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় গুরুতর আহত হন মোজতবা খামেনেই। ওই হামলায় তাঁর স্ত্রী এবং আট বছরের পুত্রের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, হামলায় গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে তিনি তেহরানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং কোমায় রয়েছেন। এমনকি তাঁর একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে বলেও খবর। পাশাপাশি যকৃত ও পাকস্থলীতেও গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের জনগণের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, “বহু প্রতীক্ষিত সেই মুহূর্ত খুব কাছে। আপনারা স্বাধীনতার পথে এগিয়ে আসতে পারেন। আমরা আপনাদের পাশে আছি, তবে শেষ আঘাতটা আপনাদেরই করতে হবে।”

তবে ইরানের শাসন পরিবর্তনের প্রশ্নে কৌশলী মন্তব্যও করেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, কাউকে পথ দেখানো যায়, কিন্তু তাকে জোর করে সেই পথে হাঁটানো যায় না। তবুও তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এই যুদ্ধের পর ইরান আর আগের মতো থাকবে না এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতাও বদলে যাবে।

অন্যদিকে, আড়াল থেকেই নিজের প্রথম বার্তা দিয়েছেন ইরানের নয়া সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলিও বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তা না হলে সেখানে হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন খামেনেই।

এছাড়াও তিনি দাবি করেন, চলমান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ শত্রুদের কাছ থেকেই আদায় করবে ইরান।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর