রাজ্যের নতুন সামাজিক প্রকল্প Yuva Sathi Prakalpa নিয়ে উপভোক্তাদের অভিযোগ বাড়তেই প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। অনেক আবেদনকারীর মোবাইলে টাকা পাঠানোর মেসেজ এলেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা পড়েনি—এমন অভিযোগ সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, যেসব উপভোক্তার আবেদন ‘সাকসেসফুল’ হলেও এখনও টাকা পৌঁছয়নি, তাদের সমস্যা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।
রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ক্যাম্প থেকে ফর্ম সংগ্রহ করে কিংবা অনলাইনে আবেদন করে বহু যুবক-যুবতী এই প্রকল্পের সুবিধার জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন। গত ৭ মার্চ থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে বহু আবেদনকারী জানিয়েছেন, তাঁদের আবেদন সফল হলেও এখনও পর্যন্ত অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি।
নবান্ন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার এলপিজি সংকট নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকেই যুবসাথী প্রকল্পে অর্থ পৌঁছতে দেরি হওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, যে সব ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত বা ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত সমস্যার কারণে টাকা পৌঁছতে দেরি হচ্ছে, সেগুলি দ্রুত খতিয়ে দেখে সমাধান করতে হবে।
সূত্রের খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ যে কোনও সময় ঘোষণা হতে পারে। নির্বাচন ঘোষণার পরই রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হবে। সেই কারণেই তার আগে বিভিন্ন নতুন প্রকল্পের বাস্তবায়ন দ্রুত সম্পূর্ণ করার ওপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
যুবসাথী প্রকল্পের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী বাজেটে রাজ্যের খেতমজুরদের জন্যও আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই সেই প্রকল্পের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। খরিফ মরশুমের আগে খেতমজুরদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দ্রুত আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি বেকার যুবক-যুবতীদের এই প্রকল্পের আওতায় মাসিক ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এই সুবিধা পাওয়া যাবে। যদিও সরকারি ভাবে ১ এপ্রিল থেকে অর্থ দেওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে ৭ মার্চ থেকেই সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে।



