বিধানসভা ভোটের মুখে বিরোধী শিবিরে আসন সমীকরণই এখন সবচেয়ে বড় সংকট। বামফ্রন্টের সঙ্গে সমঝোতা ঝুলে থাকায় ধৈর্য হারাচ্ছে আইএসএফ, আর সেই অস্থিরতার সুযোগে চাপে পড়ছে সিপিএম। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করতে পারে নওশাদ সিদ্দিকির দল—এমনই ইঙ্গিত রাজনৈতিক মহলে।
সূত্রের খবর, ক্যানিং পূর্ব ও পশ্চিম—এই দুই আসনেই আইএসএফ প্রার্থী দিতে প্রস্তুত। ভাঙড়ে নিজে প্রার্থী হতে পারেন নওশাদ সিদ্দিকি। বামফ্রন্টের তরফে আসন বণ্টনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়াতেই এই অবস্থান নিয়েছে আইএসএফ। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, আর দেরি হলে নিজেদের পছন্দের আসনে একতরফা প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।


এদিকে বামফ্রন্টের ভেতরেও অসন্তোষ বাড়ছে শরিক দলগুলির মধ্যে। কংগ্রেস জোটে না থাকায় এবার একুশের ভোটের তুলনায় বেশি আসন দাবি করছে শরিকরা। ফরওয়ার্ড ব্লক প্রথমে ৩০টি আসন দাবি করলেও তা কমিয়ে ২৫-এ আনতে রাজি। কিন্তু সিপিএমের তরফে সর্বোচ্চ ১৫টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতৃত্ব। ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর সঙ্গে তাদের আর কোনও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও এখনও স্থির হয়নি।
আরএসপির ক্ষেত্রেও একই ছবি। আগে তারা ২৩টি আসনে লড়ত। গতবার কংগ্রেস ও আইএসএফের সঙ্গে জোট থাকায় ১১টি আসনে লড়েছিল। এবার তারা ১৯টি আসনে লড়াইয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু সিপিএম ১৯টি আসন ছাড়তে রাজি নয়, পাশাপাশি কিছু আসন পরিবর্তনের কথাও তুলেছে। ফলে আরএসপির সঙ্গেও জট কাটেনি।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই ১৬ ফেব্রুয়ারি ফের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে। তবে আরএসপির রাজ্য সম্পাদক তপন হোড় এখনও আশাবাদী—আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান বেরিয়ে আসবে। কিন্তু তার আগেই আইএসএফ যদি একক প্রার্থী ঘোষণা করে, তবে বামফ্রন্টের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে নতুন চাপ তৈরি হওয়া প্রায় নিশ্চিত।









