নজরবন্দি ব্যুরো: পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ভাঙড়ে পালিত হবে বিজয় উৎসব। সেই উপলক্ষে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকে আমন্ত্রণ জানালেন ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। পঞ্চায়েত পর্বে ভাঙড়ে দফায় দফায় অশান্তি ছড়িয়েছে। শাসক দলের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জেতার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিজয় উৎসবকে নিয়ে পাল্টা কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক।
আরও পড়ুন: প্রশ্ন এড়ালে আরও সন্দেহ বাড়ে! নুসরতের ‘একতরফা’ সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে মত মদনের


পঞ্চায়েত ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই উত্তপ্ত ভাঙড়। মনোনয়ন পর্ব থেকে শুরু হওয়া অশান্তি ভোটপর্বেও দেখা গিয়েছে। এমনকি ভোট গণনার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কিছুদিন সময় লাগে। এলাকায় জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। শাসক দলের সঙ্গে আইএসএফের সংঘর্ষ, গুলি, বোমাবাজিতে দফায় দফায় অশান্তি ছড়ায়। প্রাণ হারিয়েছে একাধিকজন। রীতিমত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে ভাঙড়ে জয় পেয়েছে তৃণমূল। তারপরই বিজয় উৎসবের পরিকল্পনা। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নওশাদ সিদ্দিকিকে আমন্ত্রণ জানালেন ভাঙড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাসক দলের নেতা শওকত মোল্লা। জানা গিয়েছে, আইএসএফ বিধায়ককে চিঠি পাঠিয়ে আমন্ত্রণ জানাবেন তৃণমূল বিধায়ক। একইসঙ্গে নওশাদের নিরাপত্তার সমস্ত দায়িত্ব তিনি নেবেন বলেও জানিয়েছেন।

শওকত মোল্লা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, “পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাঙড়ে আমরা অভূতপর্ব ফল করেছি। সেই কারণে ১৩ তারিখ বিজয় উৎসব হবে। ওখানকার যিনি বিধায়ক, ছোট ভাই বলি তাঁকে, আমন্ত্রণ জানাচ্ছি তাঁকে। ওখানকার পর্যবেক্ষক হিসাবে প্রয়োজনে আমি নিজেও একটা চিঠি দেব। তাঁকে এই বিজয় উৎসবে অংশ নিতে হবে। আমি নিজে সঙ্গে করে ওঁকে নিয়ে যাব, নিরাপত্তার সব দায়িত্ব আমার।” তবে এই আমন্ত্রণ স্বীকার করেননি নওশাদ। পাল্টা কটাক্ষ করে বলেছেন, “আমার মনে হচ্ছে, শওকত সাহেব আমার জন্য কিছুটা হলেও সৌজন্যতা শিখেছেন। যারা মানুষের ভোটকে মান্যতা দেয় না। সন্ত্রাস করে, বুথ-গণনাকেন্দ্র দখল করে তাঁদের বিজয় উৎসবে কীভাবে যেতে পারি?”



উল্লেখ্য, ভাঙড়ে ১৪৪ ধারা জারি হলে খোদ নওশাদ পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। পুলিশের বিরুদ্ধে অত সক্রিয়তার অভিযোগ এনে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। তবে কয়েকদিন আগেই রাজ্য জানায় ভাঙড় থেকে ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হচ্ছে, টাই বিধায়কের ভাঙড়ে ঢুকতে কোনও অসুবিধা নেই। টাই স্বাভাবিকভাবেই নওশাদের মামলার যৌক্তিকতা নেই বলে এই মামলার নিষ্পত্তি করে উচ্চ আদালত।
পঞ্চায়েতের ‘এপিসেন্টার’ ভাঙড়ে বিজয় উৎসব তৃণমূলের, পাল্টা কটাক্ষ নওশাদের








