নজরবন্দি ব্যুরো: দুর্নীতিকাণ্ডে জর্জরিত বাংলা। বিরোধীরা একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে চলেছে শাসক দলের বিরুদ্ধে। এরইমধ্যে তৃণমূলের তারকা সাংসদ নুসরত জাহানের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ফের সুর চড়িয়েছে বিরোধী দল। নুসরতের পদত্যাগ এবং তাঁকে গ্রেফতারের দাবিতে সরব বিজেপি। এদিকে সব অভিযোগের জবাব দিতে গতকাল সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন অভিনেত্রী। কিন্তু মাত্র ৭ মিনিটে নিজের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে কোনও প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই বেরিয়ে যান তিনি। তাঁর এই ‘একতরফা’ সাফাই নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। এবার এনিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র।


সাংবাদিক বৈঠক ডেকে সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উঠে যাওয়ার বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখছেন না রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, কোনও অভিযোগ উঠলে সামনে দাঁড়িয়ে তার মুখোমুখি হতে হয়। আমি যদি প্রশ্ন এড়িয়ে যাই, তাহলে মানুষের মনে এই প্রশ্নটা থাকবে যে কেন প্রশ্নটা এড়িয়ে গেলাম।” অর্থাৎ অভিযোগ সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন এড়ালে মানুষের মনে সন্দেহ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন মদন মিত্র। তিনি আরও বলেন, “আমি যদি নুসরতের জায়গায় থাকতাম, তাহলে শেষ প্রশ্ন পর্যন্ত উত্তর দিয়েই উঠতাম। কারণ উত্তরটা না দিয়ে গেলে প্রশ্নটা প্রশ্নই থেকেই যেত।”

নুসরতের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নাকি ২০১৪ সালে ৪২৯ জনের কাছ থেকে ৫ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা করে নেন। মোট ২৪ কোটি টাকা নাকি তিনি প্রতারণা করে আত্মসাৎ করেছেন। এমনকি প্রতারিতদের নিয়ে ইডির দফতরে গিয়ে নালিশ জানান তিনি। অভিযোগটি করেছেন, বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা। তাঁর বয়ানে, গড়িয়াহাট রোডে মেসার্স সেভেন সেন্স ইনফাস্ট ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি আছে। সেই কোম্পানির ডিরেক্টর তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান। এই সংস্থার মাধ্যমেই টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন নুসরত বলে অভিযোগ।



বুধবার (২ আগস্ট) সাংবাদিক বৈঠকে এসে ‘মেজাজ হারান’ নুসরত জাহান। অভিনেত্রী সাংসদের বক্তব্য, “যে সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তাদের থেকেই ১ কোটি ১৬ লক্ষ ৩০ হাজার ২৮৫ টাকার ঋণ নিয়েছিলাম। সেই টাকায় বাড়ি কিনেছি। ২০১৭ সালের ৬ মে সুদ-সহ ১ কোটি ৪০ লক্ষ ৭১ হাজার ৯৯৫ টাকা ফেরত দিয়েছি কোম্পানিকে। ব্যাঙ্কের নথিও আমার কাছে আছে। ৩০০ শতাংশ চ্যালেঞ্জ করতে পারি যে, আমি দুর্নীতিতে যুক্ত নই। আমি এক পয়সা নিলেও এখানে আসতাম না। আদালতের তদন্তাধীন বিষয়, সেইভাবে তদন্ত হোক। এই ঘটনার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই।” নিজের কথা বলেই বেরিয়ে যান তিনি। এনিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্রশ্ন এড়ালে আরও সন্দেহ বাড়ে! নুসরতের ‘একতরফা’ সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে মত মদনের









