নজরবন্দি ব্যুরো: একুশের বিধানসভার ফলাফল প্রকাশ পরেই বিজেপি দলে ভাঙন শুরু হয়। শেষমেশ হাল ধরেন বর্তমান রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এবার লোকসভার আগে কিন্তু আবার দল ছাড়ার হিড়িক গেরুয়া শিবিরে। তাও খোদ উত্তরবঙ্গে! শিলিগুড়িতে ভাঙন ধরেই চলেছে। আগেই দলের পদ ছেড়েছিলেন ৩০ জন নেতা। এবার দলীয় পদ ছাড়লেন বিধায়ক দুর্গা মুর্মু। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, লোকসভার আগে উত্তরবঙ্গে কি ক্রমেই ব্যাকফুটে চলে যাচ্ছে বিজেপি?
আরও পড়ুন: যাদবপুরে CCTV নিয়ে টালবাহানা, বৃষ্টিবাদলে কাজ পিছোচ্ছে সাফাই রেজিস্ট্রারের


প্রসঙ্গত, মাটিগাড়া–নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দ বর্মণকে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে অরুণ মণ্ডলকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছে রাজ্য বিজেপি। তারপরই শুরু হয় দলের অন্দরে গণবিদ্রোহ। একসঙ্গে ৩০ বিজেপি নেতা ও একাধিক মণ্ডল সভাপতি পদত্যাগ করেন। এবার দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন বিধায়ক দুর্গা মুর্মু। কিছুদিন আগেই বিজেপির দুই বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এবং আনন্দ বর্মণের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছিল। শঙ্কর ঘোষ রাজ্য সম্পাদক হয়ে যাওয়ায় জেলা সভাপতি ও বিধায়ক আনন্দ বর্মণের সঙ্গে তাঁর তিক্ততা বাড়ে। তিক্ততা বাড়ে সাংসদ রাজু বিস্তার সঙ্গেও। তার মধ্যে আনন্দ বর্মণকে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় রাজু ও শঙ্করের অনুগামী বলে পরিচিত অরুণ মণ্ডলকে।

উত্তরবঙ্গ যে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। একুশের বিধানসভা থেকে লোকসভা নির্বাচন, কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না এলেও উত্তরের সিংহভাগ মানুষের সমর্থন ছিল গেরুয়া শিবিরের দিকেই। বছর ঘুরলেই লোকসভা নির্বাচন। এবারেও উত্তরবঙ্গকেই হাতিয়ার করে এগোতে চায় গেরুয়া শিবির। কিন্তু তার আগেই শিলিগুড়িতে কার্যত মহাবিদ্রোহ। একসঙ্গে ৩০ জন নেতা দল ত্যাগ করার পাশাপাশি এবার দলীয় পদ ত্যাগ করলেন বিধায়ক দুর্গা মুর্মু। রাজনৈতিক মহলের জল্পনা, তাহলে এবার কি উত্তরবঙ্গ হাতছাড়া হতে পারে বিজেপির? রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসও আগে দাবি করেছে, আর বিজেপি নয় উত্তরবঙ্গে আগামী লোকসভায় ফুটবে ঘাসফুলই। এখন উত্তরবঙ্গে কোন ফুল ফুটবে তা জানতে অপেক্ষা কমপক্ষে আরও আট-নয় মাস।











