মার্কিন দূতাবাস, সেনাঘাঁটিতে ব্যাপক হামলা ইরানের! আমেরিকায় পৌঁছোল যুদ্ধে নিহতদের দেহ

কুয়েতে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের। ওসলোর মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিস্ফোরণ, লেবাননে ইজ়রায়েলি হামলা—পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ আরও ছড়াল বিভিন্ন দেশে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত আরও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। মার্কিন দূতাবাস ও সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার চালাল ইরান, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। কুয়েতে মার্কিন সেনাঘাঁটির সদর দফতরে হামলার দাবি করেছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী। অন্যদিকে নরওয়ের রাজধানী ওসলোর মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিস্ফোরণ ঘটেছে। একই সময় চলতে থাকা যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের দেহও দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা যুদ্ধের ভয়াবহতার নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনীর দাবি, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটির সদর দফতরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এখন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও এই হামলার ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসনের তরফে এখনও বিস্তারিত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

এর মধ্যেই ইউরোপেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নরওয়ের রাজধানী ওসলোর মার্কিন দূতাবাসের সামনে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে এবং মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে লেবাননে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। ইজ়রায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা বেইরুটে হিজ়বুল্লা কমান্ডারদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর আগে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছিল, ইজ়রায়েলি হামলায় বেইরুটের একটি হোটেলে অন্তত চার জন নিহত হয়েছেন।

এই সংঘাতের মধ্যেই মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে। সরকারি হিসাবে, পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ছয়জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (স্থানীয় সময়) নিহত সেনাদের দেহ আমেরিকায় পৌঁছেছে এবং রাষ্ট্রীয় সম্মানের সঙ্গে তাঁদের কফিন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের আরও একাধিক জায়গায় উত্তেজনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। দুবাই মেরিনায় একটি বহুতল টাওয়ারে আগুন লেগে যায়, যখন ইরান থেকে আসা একটি ড্রোনকে প্রতিহত করার পরে তার ধ্বংসাবশেষ সেখানে গিয়ে আঘাত করে। যদিও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় বড় কোনও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

এদিকে কুয়েতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। কুয়েতের সামাজিক নিরাপত্তা দফতরের মূল ভবনে হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সৌদি আরবও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, রিয়াধের আকাশে ঢুকে পড়া একটি ড্রোনকে সেনাবাহিনী ধ্বংস করেছে। শুধু তাই নয়, সৌদি আকাশসীমায় ঢুকে পড়া অন্তত ১৫টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সৌদি প্রশাসন।

সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এখন ক্রমশ আন্তর্জাতিক মাত্রা পাচ্ছে। বিভিন্ন দেশে হামলার ঘটনা এবং পাল্টা সামরিক প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত